রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের মামলায় তদন্ত দ্রুত শেষ করার আশ্বাস দিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি জানিয়েছেন, ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পাওয়া গেলে ঈদুল আজহার আগেই মামলার চার্জশিট দাখিল করা সম্ভব হবে। আর ঈদের পর শুরু হতে পারে বিচারিক কার্যক্রম।
শনিবার রাজধানীতে আয়োজিত লিগ্যাল এইডের এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে আইনমন্ত্রী এ তথ্য জানান। আলোচনায় উঠে আসে সম্প্রতি দেশজুড়ে আলোচিত রামিসা হত্যা ও ধর্ষণের বিষয়টি।
আইনমন্ত্রী বলেন, ডিএনএ রিপোর্ট ছাড়া চার্জশিট দিলে বিচারপ্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই সব ধরনের বৈজ্ঞানিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেই মামলাটি আদালতে পাঠানো হবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এমনভাবে বিচার শেষ করা হবে যাতে জনগণের মনে কোনো ধরনের সন্দেহ বা প্রশ্ন না থাকে।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মামলার রায় কার্যকরের ক্ষেত্রে হাইকোর্টে অনুমোদনের জন্য পেপার বুক প্রস্তুতে দীর্ঘসূত্রতার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। এ সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে বলে জানান আইনমন্ত্রী। পাশাপাশি নেত্রকোনার মেঘলা হত্যার ঘটনাও সরকার পর্যবেক্ষণে রেখেছে বলে উল্লেখ করেন।
গত ১৯ মে সকালে মিরপুরের পল্লবীর একটি বাসা থেকে শিশু রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে একই বাসার বাথরুম থেকে উদ্ধার করা হয় তার কাটা মাথা। এ ঘটনায় পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
তদন্তের শুরুতে প্রধান আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করা হয়। পরে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের পর আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার কথা স্বীকার করেছে সে।
নৃশংস এই ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন মহলে দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি ওঠে। এ ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও রামিসার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে ন্যায়বিচারের আশ্বাস দেন।








