রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় আদালতের রায় ঘোষণার পর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীর বাবা। তিনি জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই কাঙ্ক্ষিত রায় পাওয়া গেছে এবং এখন তিনি দ্রুত রায় কার্যকরের অপেক্ষায় আছেন।
রায়ের পর আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আমি ১০০ শতাংশ সন্তুষ্ট। আমি চাই আমার মেয়ের হত্যার রায় যত দ্রুত সম্ভব কার্যকর করা হোক।”
তিনি আরও জানান, কঠিন এই সময়ে পরিবারকে পাশে থাকার জন্য বিচার বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গণমাধ্যমকর্মী এবং সাধারণ মানুষের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞ।
এর আগে, রোববার (৭ জুন) সকাল ১০টা ২৭ মিনিটে রায় শুনতে আদালতে উপস্থিত হন তিনি। রায় ঘোষণার সময় তিনি এজলাসে বসে ছিলেন এবং এক পর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বাইরে থেকে ফ্যান এনে দেওয়া হয়। পুরো সময় তিনি নীরবে মাথা নিচু করে রায় শোনেন।
এদিন ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল মাত্র ১৯ দিনের বিচার প্রক্রিয়া শেষে মামলার রায় ঘোষণা করে। রায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে পল্লবীর একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে শিশুটির খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগেই অভিযুক্ত সোহেল রানা শৌচাগারের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যায়। পরে একই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকেই তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে ২০ মে আসামিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ১ জুন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। এরপর সাক্ষ্যগ্রহণ, আত্মপক্ষ সমর্থন ও যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি রায়ের পর্যায়ে আসে।
অল্প সময়ের বিচারিক প্রক্রিয়ায় আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে ছিল টানটান উত্তেজনা, আর রায় শেষে ভুক্তভোগীর পরিবারে দেখা যায় মিশ্র আবেগ ও স্বস্তি।








