সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ১০০ দিন পেরিয়ে গেলেও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং তথ্য কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো পুনর্গঠনে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
রোববার (৭ জুন) রাজধানীতে টিআইবির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, জবাবদিহিমূলক ও সুশাসনভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এসব কমিশনের কার্যকর উপস্থিতি অপরিহার্য। কিন্তু সরকার গঠনের তিন মাস পরও কমিশনগুলো পুনর্গঠনের উদ্যোগ দৃশ্যমান না হওয়া হতাশাজনক।
বিশেষ করে দুদক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কমিশন না রেখে এর এখতিয়ার সচিব পর্যায়ে ন্যস্ত করার প্রবণতা উদ্বেগজনক। তার ভাষায়, “দুদকের ক্ষেত্রে সরকার আত্মঘাতী অবস্থান নিয়েছে।” তিনি মনে করেন, তিন মাসেও কমিশন গঠন না হওয়া দুর্ভাগ্যজনক এবং বিব্রতকর।
সরকারের ১০০ দিনের কার্যক্রম মূল্যায়ন করে টিআইবি বলেছে, একদিকে এই সময়কাল আশাব্যঞ্জক ও সম্ভাবনাময় হলেও অন্যদিকে সুশাসন, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং কার্যকর জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় রোডম্যাপ এখনও স্পষ্ট নয়।
সংবাদ সম্মেলনে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ড. ইফতেখারুজ্জামান। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে টিআইবি নির্বাহী পরিচালক বলেন, সরকার মব সংস্কৃতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার ঘোষণা এবং চাঁদাবাজি রোধে কঠোর অবস্থানের কথা বললেও বাস্তবে এসব কর্মকাণ্ড পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি।
এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন সাবেক উপদেষ্টার বিরুদ্ধে যে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোতেও দুদকের সক্রিয় ভূমিকা থাকা প্রয়োজন। তার মতে, রাষ্ট্রের কোনো ব্যক্তি বা পদধারীই জবাবদিহির ঊর্ধ্বে নন।








