চলতি অর্থবছরে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ শক্তিশালী অবস্থানে থাকলেও জুন মাসের শুরুতে রেমিট্যান্স আসার গতি কিছুটা কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুনের প্রথম ছয় দিনে দেশে এসেছে ৬৮ কোটি ৩৩ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কম।
রোববার (৭ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, জুনের প্রথম ছয় দিনে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১১ কোটি ৩৯ লাখ ডলার রেমিট্যান্স দেশে এসেছে। তবে গত বছরের একই সময়ে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ৮৬ কোটি ২৫ লাখ ৯০ হাজার ডলার। ফলে বছর ব্যবধানে জুনের শুরুতে রেমিট্যান্স প্রবাহে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।
যদিও মাসের শুরুতে প্রবাহ কিছুটা কমেছে, সামগ্রিক অর্থবছরের চিত্র ইতিবাচক। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ৬ জুন পর্যন্ত দেশে মোট ৩ হাজার ৩৪৪ কোটি ১ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ প্রবৃদ্ধি ১৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ।
সম্প্রতি কয়েক মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে উচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। গত মে মাসে দেশে এসেছে ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ৩০ হাজার ডলার, যা দেশের ইতিহাসে একক মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়। এর আগের মাস এপ্রিলে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ ডলার।
সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আসে গত মার্চ মাসে। ওই মাসে প্রবাসীরা দেশে পাঠান ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার ডলার, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রাপ্তির রেকর্ড।
এ ছাড়া চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারিতে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার এবং জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স আসে। এর আগে ডিসেম্বর মাসে আসে ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার এবং নভেম্বরে আসে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার।
অক্টোবর ও সেপ্টেম্বরে যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার এবং ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স আসে। অন্যদিকে আগস্টে আসে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ডলার এবং জুলাই মাসে আসে ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরজুড়ে দেশে মোট ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এটি দেশের ইতিহাসে কোনো একক অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের নতুন রেকর্ড।








