বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

সবশেষ

এপস্টেইন তদন্তে কংগ্রেসে সাক্ষ্য: তিন বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কথা স্বীকার বিল গেটসের

মার্কিন কংগ্রেসের একটি রুদ্ধদ্বার সাক্ষ্যপর্বে মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস স্বীকার করেছেন, তার জীবনে তিনটি বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে তার যোগাযোগ ও সম্পর্ক নিয়ে তদন্তের অংশ হিসেবে প্রতিনিধি পরিষদের ওভারসাইট কমিটির সামনে তিনি এ তথ্য দেন।

১০ জুন অনুষ্ঠিত ওই সাক্ষ্যগ্রহণের অনুলিপি মঙ্গলবার প্রকাশ করে কমিটি। নথি অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদের শুরুতেই গেটস দুই রুশ নারীর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি স্বীকার করেন। তাদের একজন ব্রিজ খেলোয়াড় মিলা আন্তোনোভা এবং অন্যজন পারমাণবিক পদার্থবিদ কারিমা নিগমাতুলিনা। পরে কংগ্রেস সদস্যদের প্রশ্নের মুখে তিনি আরও একজন নারী বিজ্ঞানীর সঙ্গে সম্পর্কের কথাও জানান।

সাক্ষ্যে গেটস বলেন, এপস্টেইনের কোনো নির্যাতনের ঘটনা তিনি কখনো প্রত্যক্ষ করেননি। তবে এপস্টেইনের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে দেখা-সাক্ষাতের সময় অজান্তে তার ভুক্তভোগীদের সংস্পর্শে এসে থাকতে পারেন। কারণ, পরে এপস্টেইনের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন নারী ও কিশোরীকে নির্যাতনের শিকার হিসেবে শনাক্ত করা হয়।

এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগকে তিনি ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ হিসেবে বর্ণনা করেন। গেটস জানান, বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের কর্মীদের কাছেও তিনি এর আগে দুটি বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছিলেন। সেই তথ্য এপস্টেইনের কাছেও পৌঁছেছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কংগ্রেসে দেওয়া বক্তব্যে গেটস ইঙ্গিত দেন, তার ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়গুলো জেনে এপস্টেইন তাকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি আরও বলেন, চিকিৎসা-উদ্যোক্তা অ্যালিস জ্যাকবস নেসেলরোদতের সঙ্গে তার সম্পর্ক ২০১১ সালে এপস্টেইনের সঙ্গে পরিচয়ের আগেই শুরু হয়েছিল। পরে একটি ই-মেইলের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, এপস্টেইন ওই সম্পর্কের বিষয়েও অবগত ছিলেন।

জিজ্ঞাসাবাদের সময় আইনপ্রণেতারা গেটসকে ২০১৩ সালের জুলাই মাসে এপস্টেইনের নিজের কাছে পাঠানো একটি ই-মেইল দেখান, যেখানে অ্যালিস জ্যাকবস নেসেলরোদতের নাম উল্লেখ ছিল। এর আগে মার্কিন বিচার বিভাগের প্রকাশিত সংস্করণে গেটসের নাম আড়াল করা হয়েছিল।

গেটস দাবি করেন, এপস্টেইন তার ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে কখনো সফলভাবে ব্ল্যাকমেইল করতে পারেননি। তবে তার বিশ্বাস, এপস্টেইনের উদ্দেশ্য সেই দিকেই এগোচ্ছিল।

সম্প্রতি প্রকাশিত বিভিন্ন নথিতে গেটস ও এপস্টেইনের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে মার্কিন বিচার বিভাগ এপস্টেইন-সংশ্লিষ্ট নথি প্রকাশ করতে শুরু করলে বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে।

এসব নথির একটিতে এপস্টেইন দাবি করেছিলেন, রুশ নারীদের সঙ্গে সম্পর্কের পর গেটস একটি যৌনবাহিত রোগে আক্রান্ত হন এবং স্ত্রী মেলিন্ডা গেটসের অজান্তে অ্যান্টিবায়োটিক সংগ্রহের চেষ্টা করেছিলেন। তবে গেটস বরাবরের মতো এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

রুদ্ধদ্বার সাক্ষ্যে তিনি স্বীকার করেন, কোনো এক বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কারণে সংক্রমণের আশঙ্কা একসময় তার মধ্যে তৈরি হয়েছিল। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এপস্টেইনের চিঠিতে উত্থাপিত অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন এবং তার কখনো কোনো যৌনবাহিত রোগ ধরা পড়েনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *