তীব্র তাপদাহে পুড়ছে কুয়েত। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ৫১ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠেছে। যা জনজীবন ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে। চরম গরমের কারণে রাজধানী কুয়েত সিটির আদাইলিয়া এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটে। কুয়েতের বিদ্যুৎ, পানি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অতিরিক্ত লোডের কারণে কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।
এদিকে দেশটির আবহাওয়া বিভাগ নাগরিক ও প্রবাসীদের দিনের বেলা অপ্রয়োজনীয় বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে নির্মাণ শ্রমিক, ডেলিভারি কর্মী এবং খোলা আকাশের নিচে কাজ করা শ্রমিকদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কুয়েতে গ্রীষ্মকালীন তাপমাত্রা নতুন কিছু নয়। গত এক দশক ধরে দেশটি নিয়মিতভাবেই ৫০ ডিগ্রির ওপরে তাপমাত্রা দেখছে। ২০১৬ সালে মিত্রিবায় ৫৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল, যা বিশ্বের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার মধ্যে অন্যতম হিসেবে বিবেচিত।
২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্তও একাধিকবার ৫০-৫৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। ২০২৫ ও ২০২৬ সালে বিদ্যুতের চাহিদা নতুন রেকর্ড ছুঁয়েছে, ফলে কিছু এলাকায় সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন এবং গরম মৌসুমে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারের কারণে দেশটির অবকাঠামোতে নতুন চাপ তৈরি হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিসহ সব শ্রমিকের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ ও কর্তৃপক্ষের পরামর্শ অনুযায়ী করণীয়গুলো হলো—
পানি ও শরীরের যত্ন
নিয়মিত পানি পান করতে হবে, শুধু তৃষ্ণা লাগলে নয়। প্রয়োজনে ওআরএস বা লবণ-চিনি মিশ্রিত পানীয় গ্রহণ করা যেতে পারে। অতিরিক্ত চা-কফি এড়িয়ে চলা উচিত।
কাজের সময় নিয়ন্ত্রণ
সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সরাসরি রোদে কাজ যতটা সম্ভব কমাতে হবে। ছায়াযুক্ত স্থানে বিরতি নেওয়া এবং কুল-ডাউন ব্রেক নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
পোশাক ও সুরক্ষা
হালকা ও ঢিলেঢালা কাপড় পরা, সম্ভব হলে হালকা রঙের পোশাক ব্যবহার করা উচিত। মাথায় ক্যাপ বা ভেজা কাপড় ব্যবহার করলে তাপমাত্রার প্রভাব কমে।
হিটস্ট্রোকের লক্ষণ চেনা
হিটস্ট্রোকের ক্ষেত্রে মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, হঠাৎ ঘাম বন্ধ হয়ে যাওয়া, বমি বমি ভাব, দ্রুত হৃদস্পন্দন বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এসব দেখা দিলে দ্রুত বিশ্রাম ও চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
কর্মপরিবেশে সতর্কতা
সম্ভব হলে শীতল বা ছায়াযুক্ত স্থানে কাজ করা, একা কাজ না করা এবং সহকর্মীদের একে অপরকে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। জরুরি চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা সম্পর্কে আগে থেকেই জানা থাকা উচিত।
খাদ্য ও বিশ্রাম
হালকা খাবার গ্রহণ, অতিরিক্ত ঝাল-তেল এড়ানো এবং পর্যাপ্ত ঘুম শরীরকে তাপ সহনশীল রাখতে সাহায্য করে।
কুয়েতের চলমান তীব্র তাপদাহে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা। তাই প্রবাসীদের সতর্কতা মেনে চলাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।








