সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গান গেয়ে আলোচনায় আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে নানা আলোচনা চলছে। অনেকেই ধারণা করছেন, তার ভাইরাল হওয়া গান ও অনলাইন উপস্থিতির কারণেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, সিদ্ধান্তটির পেছনে রয়েছে আর্থিক অনিয়মসহ আরও বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ।
সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় অধ্যাপক তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো তদন্তে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী জানান, আর্থিক অনিয়ম, একাডেমিক দায়িত্বের বাইরে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড এবং সাম্প্রতিক কিছু আচরণসহ নানা অভিযোগ বিবেচনায় নিয়ে সিন্ডিকেট এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ মে বাংলা বিভাগের একাডেমিক কমিটি অধ্যাপক তাশরিক-ই-হাবিবকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। অভিযোগগুলোর বিষয়ে তিনি লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিলেও সেটিকে সন্তোষজনক মনে করেনি কমিটি।
বাংলা বিভাগের অধ্যাপক তারিক মনজুর বলেন, এমফিল ও পিএইচডি গবেষকদের কাছ থেকে বিধিবহির্ভূতভাবে অর্থ দাবি ও গ্রহণের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে তিনি দাবি করেন।
তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, বিভাগের কিছু শিক্ষার্থীকে তার লেখা বই বা প্রকাশিত পত্রিকা কিনতে চাপ দেওয়া হতো এবং তা না করলে মূল্যায়নে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকত। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিভিন্ন পোস্ট ও ভিডিও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজের একাংশের কাছেও গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি।
অধ্যাপক তারিক মনজুরের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব বিষয় বিবেচনা করেই বাংলা বিভাগের একাডেমিক কমিটির সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে তার চাকরি থেকে অপসারণের সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত নেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগও দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ উত্থাপন করে আসছিল।
তবে অধ্যাপক তাশরিক-ই-হাবিবের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। গত মঙ্গলবার ও বুধবার তাঁর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তারও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, গত কয়েক মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন জনপ্রিয় গান পরিবেশন করে আলোচনায় আসেন অধ্যাপক তাশরিক-ই-হাবিব। শাহ আবদুল করিম, জেমস এবং ফজলুর রহমান বাবুর গান গেয়ে তিনি ফেসবুক ব্যবহারকারীদের নজর কাড়েন।
তার পরিবেশনা নিয়ে একদিকে যেমন প্রশংসা হয়েছে, অন্যদিকে তা নিয়ে ব্যাপক ট্রল ও সমালোচনাও দেখা যায়। ফলে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত প্রকাশের পর অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন ওঠে, ভাইরাল হওয়া গান কি এর কারণ? তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, সিদ্ধান্তটি মূলত তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই নেওয়া হয়েছে।








