বিদায়ী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। অর্থবছরজুড়ে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার, যা দেশের ইতিহাসে কোনো এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড।
এরই ধারাবাহিকতায় চলতি জুন মাসের প্রথম ২৮ দিনেও প্রবাসী আয়ের প্রবাহ শক্তিশালী রয়েছে। এ সময় দেশে এসেছে ২৫৮ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে প্রায় ৯ কোটি ২৪ লাখ ডলার।
সোমবার (২৯ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, জুনের প্রথম ২৮ দিনে দেশে মোট ২৫৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। গত বছরের একই সময়ে এ অঙ্ক ছিল ২৫৪ কোটি ডলার। ফলে জুনের এই সময়ে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ প্রায় একই মাত্রায় রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ৫৩৪ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এটি ১৭ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি।
মাসভিত্তিক হিসাবেও চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্সে ধারাবাহিক ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। মার্চ মাসে দেশে আসে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার, যা দেশের ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স। এরপর মে মাসে আসে ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ৩০ হাজার ডলার, যা ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মাসিক প্রবাসী আয়।
এপ্রিল মাসে রেমিট্যান্স আসে ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ ডলার। ফেব্রুয়ারিতে আসে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার এবং জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার।
এর আগে, ডিসেম্বরে দেশে আসে ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার এবং নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স।
অন্যদিকে, অক্টোবর মাসে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ডলার এবং সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার। অর্থবছরের শুরুতে আগস্টে আসে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ডলার এবং জুলাই মাসে আসে ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বলছে, পুরো অর্থবছরজুড়ে প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সামষ্টিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।








