ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শোক ও দাফন কর্মসূচি শনিবার রাজধানী তেহরানে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত এই ৮৬ বছর বয়সী নেতাকে শেষ বিদায় জানাতে রাজধানীতে লাখো মানুষের সমাগম হয়েছে। শোকানুষ্ঠানে খামেনির কফিনের পাশেই রাখা হয় হামলায় নিহত তার পরিবারের সদস্যদের মরদেহ, যার মধ্যে ছিল তার ১৪ মাস বয়সী নাতনির ছোট একটি কফিন।
জাতীয় পতাকায় মোড়ানো খামেনির কফিন তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণে নেওয়া হলে সেখানে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। কফিনের ওপর রাখা ছিল তার ব্যবহৃত কালো পাগড়ি, যা উপস্থিত মানুষের আবেগ আরও গভীর করে তোলে।
ছয় দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় বিদায় কর্মসূচি ইরান ও প্রতিবেশী ইরাকের বিভিন্ন শহরে অনুষ্ঠিত হবে। শুক্রবার খামেনির মরদেহ তেহরানে আনার পর থেকেই গ্র্যান্ড মোসাল্লার বাইরে হাজারো মানুষ অবস্থান নিতে শুরু করেন। শনিবার সকালে জনসাধারণের জন্য ফটক খুলে দেওয়া হলে অল্প সময়ের মধ্যেই বিশাল প্রাঙ্গণ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।
শোকমিছিলে অংশ নেওয়া অনেকের হাতে ছিল প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে পরিচিত লাল ব্যানার। সেখানে ‘যুক্তরাষ্ট্র ধ্বংস হোক’ এবং ‘প্রতিশোধ, প্রতিশোধ’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
ইরানি কর্তৃপক্ষের ধারণা, আগামী তিন দিনে শুধু তেহরানেই দেড় থেকে দুই কোটি মানুষ এই রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
বার্তা সংস্থা এপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ২৭ বছর বয়সী এক শোকাহত তরুণ বলেন, ‘আমি এখানে আমার প্রিয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে বিদায় জানাতে এসেছি। আমি কখনো ভাবিনি এমন একটি দিন দেখতে হবে। এ ট্র্যাজেডি দেখার আগে যদি আমার মৃত্যু হতো!’
রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা নিবেদনের অনুষ্ঠানে ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের নেতারাও অংশ নেন। এ সময় ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার অন্যতম মধ্যস্থতাকারী মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফকে আবেগাপ্লুত হয়ে কাঁদতে দেখা যায়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আহমদ ওয়াহিদিও। একই হামলায় খামেনির পূর্বসূরি নিহত হওয়ার পর তাঁকে ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি)-এর নতুন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী আগামী সোমবার পর্যন্ত খামেনির কফিন তেহরানে রাখা হবে। ওই দিন রাজধানীতে একটি বৃহৎ শোকমিছিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর মঙ্গলবার মরদেহ নেওয়া হবে কোম শহরে। সেখান থেকে বুধবার প্রতিবেশী ইরাকের বিভিন্ন শহরে জানাজার আয়োজন করা হবে। সবশেষ আগামী শুক্রবার উত্তর-পূর্ব ইরানের জন্মশহর মাশহাদে তাকে দাফন করা হবে।








