শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

সবশেষ

বাবার জানাজায় নেই মোজতবা খামেনি, নেপথ্যে কী?

ইরানের মরহুম সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শোক ও দাফন কর্মসূচিতে লাখো মানুষের উপস্থিতি এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের মধ্যেও একটি বিষয় বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে, বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির অনুপস্থিতি। নিরাপত্তাজনিত কারণেই তিনি জনসমক্ষে আসছেন না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

কাতারের জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক পল মাসগ্রেভ আল জাজিরাকে বলেন, ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতার এই অনুপস্থিতি নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তার মতে, তেহরানের আশঙ্কা, জানাজার মতো বড় জনসমাগমকে লক্ষ্য করে ইসরায়েল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে আরেকটি ‘ডিক্যাপিটেশন স্ট্রাইক’ বা শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে হামলা চালাতে পারে। অতীতেও রাজনৈতিক নেতাদের শেষকৃত্যের শোভাযাত্রায় হামলার নজির রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তবে মাসগ্রেভের মতে, দীর্ঘ সময় জনসমক্ষে না থাকাও ইরানের নেতৃত্বের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, কয়েক মাস ধরেই মোজতবা খামেনিকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। একসময় তাকে জনসমক্ষে এনে দেখাতে হবে যে তিনি আড়ালে থাকা কোনো নেতা নন, বরং বাস্তবে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ যৌক্তিক হলেও, ভবিষ্যতে এ বিষয়ে ভারসাম্য তৈরি করতে হবে।

শনিবার (৪ জুলাই) ভোর থেকেই রাজধানী তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লার সামনে মানুষের ঢল নামে। আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ সেখানে জড়ো হন।

তেহরানে সাধারণ মানুষের জন্য দুই দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে সর্বস্তরের মানুষ খামেনি এবং হামলায় নিহত তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন। ইরানি কর্তৃপক্ষের ধারণা, শুধু তেহরানেই দেড় থেকে দুই কোটি মানুষ এ কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারেন।

নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী সোমবার খামেনির শোকযাত্রা দক্ষিণাঞ্চলের কোম শহরের উদ্দেশে যাত্রা করবে। এরপর তার মরদেহ নেওয়া হবে ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালায়। সবশেষ জন্মস্থান মাশহাদে দাফন সম্পন্ন হবে। শিয়া ইসলামের অষ্টম ইমামের মাজার এবং খামেনির জন্মস্থান হওয়ায় সেখানে প্রায় ৪০ লাখ মানুষের উপস্থিতি হতে পারে বলে আশা করছে ইরান।

ইরানি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, ১৯৮৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির জানাজার পর এটিই দেশটির সবচেয়ে বড় শোকানুষ্ঠান হতে যাচ্ছে। সে সময় প্রায় এক কোটি মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানাতে অংশ নিয়েছিলেন।

এর আগে, শুক্রবার তেহরানের বিশাল প্রার্থনা হলে শায়িত খামেনির মরদেহে শ্রদ্ধা জানান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিসহ ইরানের শীর্ষ নেতারা। বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এবং ইরানের মিত্রদের পরিবারের সদস্যরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তবে এবার ইউরোপীয় দেশগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানায়নি তেহরান।

রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে কোটি মানুষের অংশগ্রহণের মধ্যেও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে মোজতবা খামেনি জনসমক্ষে আসছেন না। সম্প্রতি তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছে ইসরায়েল, এমন প্রেক্ষাপটেই তার অনুপস্থিতিকে নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *