শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

সবশেষ

প্রবাসীদের জন্য সৌদির নতুন আইন

সৌদি আরবে বিদেশি নাগরিক, প্রতিষ্ঠান ও অলাভজনক সংস্থার সম্পত্তি মালিকানার নিয়মে বড় পরিবর্তন এনেছে সরকার। নতুন নীতিমালায় সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আবেদন ও লেনদেন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই সঙ্গে তথ্য গোপন বা ভুয়া তথ্য দিলে সম্পত্তির মূল্যের সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ, অর্থাৎ সর্বোচ্চ ১ কোটি সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

নতুন আবাসন মালিকানা নীতিমালায় বিদেশি ব্যক্তি, বিদেশি কোম্পানি এবং অলাভজনক সংস্থাগুলো কীভাবে সৌদি আরবে সম্পত্তি কিনতে বা রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ করতে পারবে, তার বিস্তারিত কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।

সৌদির রিয়েল এস্টেট জেনারেল অথরিটির ভাষ্য অনুযায়ী, ‘সৌদি ভিশন ২০৩০’-এর অংশ হিসেবে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো এবং রিয়েল এস্টেট খাতে আরও স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতেই এ আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।

নতুন ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে রিয়েল এস্টেট জেনারেল অথরিটি পরিচালিত একটি সমন্বিত ইলেকট্রনিক পোর্টাল, যা জাতীয় রিয়েল এস্টেট রেজিস্ট্রির সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত। বিদেশিদের সম্পত্তি ক্রয়, বিনিয়োগ, আবেদন এবং সংশ্লিষ্ট সব লেনদেন এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেই সম্পন্ন করতে হবে।

নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, সৌদিতে বসবাস না করা বিদেশি নাগরিকদের সম্পত্তি কেনা বা আবাসনের অধিকার পাওয়ার আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অনুমোদিত একটি ডিজিটাল আইডি সংগ্রহ করতে হবে। পাশাপাশি নিজ নামে সৌদি ব্যাংক হিসাব খুলতে হবে এবং সেই আইডির সঙ্গে যুক্ত একটি সৌদি মোবাইল নম্বর নিবন্ধন করতে হবে।

বিদেশি কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রেও বেশ কয়েকটি নতুন শর্ত আরোপ করা হয়েছে। তাদের বিনিয়োগ মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধন করতে হবে, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সব প্রকৃত মালিকের তথ্য প্রকাশ করতে হবে এবং সৌদি পরিচয়পত্রধারী একজন অনুমোদিত আইনি প্রতিনিধি নিয়োগ দিতে হবে। একই সঙ্গে কোম্পানির নামে সৌদি আরবে একটি ব্যাংক হিসাব খুলতে হবে।

এসব শর্ত পূরণ হলে সৌদি বিনিয়োগ মন্ত্রণালয় একটি নিবন্ধন নম্বর প্রদান করবে। এরপর একক বা একাধিক লেনদেনের মাধ্যমে কোম্পানির ৫ শতাংশ বা তার বেশি মালিকানা পরিবর্তন হলে ১৫ দিনের মধ্যে তা কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে, যদি কোম্পানির নিজ দেশের শাসনব্যবস্থার কারণে অন্য কোনো পক্ষ প্রতিষ্ঠানটির সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব বিস্তার করতে পারে।

অলাভজনক বিদেশি সংস্থাগুলোকেও নতুন আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তাদের ‘ন্যাশনাল সেন্টার ফর নন-প্রফিট সেক্টর ডেভেলপমেন্ট’-এ নিবন্ধন করতে হবে। পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের তথ্য প্রকাশ, সৌদি পরিচয়ধারী প্রতিনিধি নিয়োগ এবং স্থানীয় ব্যাংক হিসাব চালু রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন বা নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তন এলে ১৫ দিনের মধ্যে কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।

বিদেশি পরিবারের ক্ষেত্রে নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, সৌদি আরবে সম্পত্তি কেনার সময় স্ত্রী ও সন্তানদের একই পরিবারের নির্ভরশীল সদস্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ফলে একই পরিবারের সদস্যরা আলাদাভাবে একাধিক আবাসিক সম্পত্তির মালিক হতে পারবেন না। তবে বিবাহবিচ্ছেদ বা সন্তানের বয়স ২৫ বছর পূর্ণ হলে এ নিয়মের ব্যতিক্রম হতে পারে।

ধর্মীয় গুরুত্ব বিবেচনায় মক্কা ও মদিনায় সম্পত্তির মালিকানার ক্ষেত্রে আগের বিধানই বহাল রাখা হয়েছে। সেখানে শুধুমাত্র মুসলিম নাগরিকদের জন্য মালিকানার সুযোগ থাকবে এবং কোম্পানি বা বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বিশেষ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে।

রিয়াদ, জেদ্দা, মক্কা ও মদিনায় বিদেশিদের সম্পত্তি লেনদেনে ২ শতাংশ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে উত্তরাধিকার, আদালতের চূড়ান্ত রায়, জনস্বার্থে অধিগ্রহণ, ওয়াকফ, সরকারি প্রতিষ্ঠানে অনুদান, কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থার লেনদেন এবং শতভাগ মালিকানাধীন কোম্পানি বা বিনিয়োগ তহবিলের নির্দিষ্ট কিছু হস্তান্তরসহ মোট ১০ ধরনের লেনদেন এই ফি থেকে অব্যাহতি পাবে।

এ ছাড়া দলিল হস্তান্তরের আগে সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়সংক্রান্ত সব অর্থ লেনদেন সৌদি সেন্ট্রাল ব্যাংক অনুমোদিত ইলেকট্রনিক পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে। ইলেকট্রনিক পোর্টালে নিবন্ধিত যোগাযোগ মাধ্যম বা সৌদি মোবাইল নম্বরে পাঠানো আইনি নোটিশ বৈধ হিসেবে গণ্য হবে।

আইন বাস্তবায়নে রিয়েল এস্টেট জেনারেল অথরিটির নিযুক্ত পরিদর্শকদের তদন্ত ও অনিয়ম নথিবদ্ধ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তবে শাস্তি দেওয়ার আগে অপরাধের ধরন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ভুল সংশোধনের জন্য ১০ থেকে ১৮০ দিনের সময় দেওয়া হবে।

নতুন আইনে আরও বলা হয়েছে, সম্পত্তির মালিকানা অর্জনের উদ্দেশ্যে কেউ ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দিলে তার সম্পত্তির মূল্যের সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করা যাবে, যার পরিমাণ সর্বোচ্চ ১ কোটি সৌদি রিয়াল পর্যন্ত হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *