রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

সবশেষ

‘যারা জুলাইকে কটাক্ষ করবে, তাদের জিহ্বা টেনে ছিঁড়ে ফেলতে হবে’

জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ঘিরে কোনো ধরনের কটাক্ষ বা অবমূল্যায়ন বরদাশত করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের সাবেক ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান। একই সঙ্গে তিনি সরকারের প্রতি এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

আলোচনায় আবিদুল ইসলাম খান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান সফল না হলে আজ তিনি প্রকাশ্যে নিজের মতামত তুলে ধরার সুযোগ পেতেন না। তার ভাষায়, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান যদি না হতো, তাহলে হয়তো আমি আবিদ এখানে দাঁড়িয়ে টকশো করতে পারতাম না। কথা বলতে পারতাম না। যদি জুলাই ব্যর্থ হতো, তাহলে হয়তো আমাদের হাড্ডি-মাংসও খুঁজে পাওয়া যেত না।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশকে ভালোবাসতেই আমি সংগঠন করি; বাংলাদেশের মুক্তির জন্যই আমি সংগঠন করি। তাহলে কি সংগঠন আমার কাছে আগে, নাকি বাংলাদেশ? অবশ্যই আমার কাছে বাংলাদেশ আগে।’

জুলাইকে বাংলাদেশের পরিবর্তন ও গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করে ছাত্রদল নেতা বলেন, ‘এই জুলাই বাংলাদেশ পরিবর্তনের জুলাই। বাংলাদেশকে স্থিতিশীল করার জুলাই। দীর্ঘমেয়াদে গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতার জন্য জুলাই সংগঠিত হয়েছে। এ কারণে জুলাই সনদের যেটি বাস্তবায়ন করা জরুরি, সেটি বাস্তবায়নের জন্য আমাদের দাবি থাকবে। আশা করি, সরকার সেটি বাস্তবায়ন করবে।’

টকশোতে তিনি জুলাই আন্দোলনে নিহতদের স্মরণ করে বলেন, সুযোগ পেলেই তিনি শহীদদের কবর জিয়ারত করতে যান। তার ভাষায়, ‘আমি যখনই সুযোগ পাই, শহীদদের কবর জিয়ারত করতে যাই। কারণ, চোখের সামনে আমি তাদের মৃত্যু দেখেছি। তাদের মৃত্যু না হয়ে তখন আমার মৃত্যু হতে পারত। আমি দীর্ঘ সময় ধরে কবরগুলো ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই যে বাচ্চারা অকাতরে প্রাণ বিলিয়ে দিয়ে চলে গেল, রাষ্ট্রের জন্য, পরিবর্তনের জন্য। আজকে পতিত স্বৈরাচারের বিভিন্ন ল্যাসপেন্সার দেশে বসে জুলাইকে কটাক্ষ করে পোস্ট দিচ্ছে।’

এ সময় জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে কড়া বক্তব্যও দেন আবিদুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, ‘আমি গোটা দেশের ছাত্রসমাজের উদ্দেশে বলতে চাই, গণঅভ্যুত্থান কোনো নিয়ম মেনে হয়নি, জাতিকে মুক্ত করার জন্য এই গণঅভ্যুত্থান সংগঠিত হয়েছে। এই জুলাইকে যারা কটাক্ষ করতে চাইবে, অস্বীকার করতে চাইবে কিংবা বিভিন্ন ভাষা ব্যবহার করে জুলাইকে অবহেলিত করতে চাইবে, তাদের জিহ্বা টেনে ছিঁড়ে ফেলতে হবে।’

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের প্রশ্নে কোনো প্রকার ছাড় কাউকে দেওয়া যাবে না। জুলাই আমাদের দেশের ঐক্যের প্রতীক, দেশের অস্তিত্বের প্রতীক।’

আলোচনার শেষ দিকে তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পাশাপাশি ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘একাত্তর যেমন গুরুত্বপূর্ণ, চব্বিশও রাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যারা জুলাইকে কটাক্ষ করে, তাদের ব্যাপারে সরকারকে অবশ্যই জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *