রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সবশেষ

এলএনজি সরবরাহ কমায় গ্যাসচাপে নতুন সংকট, দুর্ভোগে পড়তে পারেন ঢাকাসহ দেশের গ্রাহকরা

সমুদ্রে বিরূপ আবহাওয়ার প্রভাব পড়েছে দেশের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায়। কক্সবাজারের মহেশখালীতে থাকা দুটি ভাসমান এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ প্রায় ৩০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের প্রবাহ কমে যাওয়ায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আবাসিক, শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতের গ্রাহকদের ভোগান্তি বাড়তে পারে।

বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) সূত্রে জানা গেছে, দেশে গ্যাসের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ দীর্ঘদিন ধরেই কম রয়েছে। এর মধ্যে মহেশখালীর দুটি ভাসমান টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১০৫ কোটি ঘনফুট এলএনজি জাতীয় গ্রিডে যোগ করা হচ্ছিল। তবে সমুদ্রে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সোমবার গভীর রাত থেকে ধাপে ধাপে সরবরাহ ৩০ কোটি ঘনফুট কমিয়ে বর্তমানে প্রায় ৭৫ কোটি ঘনফুটে নামিয়ে আনা হয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে আবার আগের মতো সরবরাহ বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বর্তমানে দেশের মোট গ্যাস সরবরাহের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশই আসে আমদানি করা এলএনজি থেকে। ফলে এই উৎসে সরবরাহ কমে গেলে সামগ্রিক গ্যাস সংকট আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ার প্রভাব ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পড়তে শুরু করেছে। অনেক স্থানে আবাসিক গ্রাহকদের রান্নার গ্যাসের চাপ কমে যেতে পারে। পাশাপাশি শিল্পকারখানাগুলো প্রয়োজনীয় পরিমাণ গ্যাস না পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

এদিকে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় গ্যাস বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে মহেশখালীর দুটি এলএনজি টার্মিনাল থেকে প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। এর ফলে তিতাসের আওতাধীন সব শ্রেণির গ্রাহকের সংযোগে গ্যাসের চাপ কম থাকবে। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত এই স্বল্পচাপ অব্যাহত থাকতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *