পুরান ঢাকার শ্যামবাজারের চামারটুলি। একটি পৈতৃক বাড়িকে ঘিরে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিরোধের শুরু ময়লা পানি জমে থাকা নিয়ে। শুক্রবারের সেই বাগবিতণ্ডার পরদিনই ঘটে ভয়াবহ ঘটনা। পরিবারের স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে মো. ইমন প্রথমে পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেন। এরপর নিজের ও অন্যদের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন।
শনিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে সূত্রাপুরের ওই ঘটনায় ইমনসহ পরিবারের পাঁচজন দগ্ধ হন। তাদের সবাইকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
তবে ঘটনার পেছনের বিরোধ কীভাবে এতটা ভয়াবহ পরিণতিতে গেল, সেই প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে।
শুরুটা ময়লা পানি নিয়ে
স্বজনদের বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনার একদিন আগে শুক্রবার বাড়ির সামনে ময়লা পানি জমে থাকা নিয়ে ইমনের বোন সুলতানার সঙ্গে তানিয়া আক্তারের বাগবিতণ্ডা হয়।
তানিয়া ময়লা পানি পরিষ্কার করতে বলেছিলেন। বিষয়টি সুলতানা তার ভাই ইমনকে সৌদি আরবে জানান বলে দাবি করেছেন পরিবারের সদস্যরা।
স্বজনদের ভাষ্য, খবর পাওয়ার পর ইমন গতকালই সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন। এরপর শনিবার বিকালে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আবারও উত্তেজনা তৈরি হয়।
‘আমিও মরব, তোদেরকেও মারব’
ঘটনার প্রত্যক্ষ বর্ণনা দিয়েছেন আরিফুর রহমান ধলুর স্ত্রী সোনিয়া আক্তার। তার দাবি, শনিবার বিকালে ইমন পরিবারের সদস্যদের সবাইকে মেরে ফেলার হুমকি দেন।
সোনিয়ার ভাষ্য, ইমন বলেন, “আমিও মরব, তোদেরকেও মারব।” এরপরই তিনি নিজের এবং অন্যদের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন বলে দাবি করেন সোনিয়া।
তবে পেট্রোল কীভাবে সেখানে এলো, আগুন ধরানোর ঠিক আগে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, এসব বিষয়ে স্বজনদের বক্তব্যের বাইরে বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
আগুনে দগ্ধ পাঁচজন
ঘটনায় দগ্ধ হয়েছেন সিদ্দিক বেপারী (৬০), তার ছেলে মো. ইমন (২৬), ভাতিজা রাজিব (৩৮), ভাগনে আরিফুর রহমান ধলু (৩৫) এবং ভাগনি তানিয়া আক্তার (২০)।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. সুলতান মাহমুদ জানিয়েছেন, ইমনের শরীরের ৯০ শতাংশ পুড়ে গেছে। তানিয়ার ৬০ শতাংশ, সিদ্দিকের ৩৫ শতাংশ, রাজিবের ১৫ শতাংশ এবং আরিফুরের ৮ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।
দগ্ধদের মধ্যে রাজিব একটি ন্যাশনাল হাসপাতালে মেকানিক হিসেবে কর্মরত। আরিফুর রহমান ধলু ইলেকট্রিক মিস্ত্রি এবং তানিয়া পুরান ঢাকার উইমেন্স কলেজের স্নাতকের শিক্ষার্থী।
একই পরিবারের পাঁচজন, প্রশ্ন অনেক
ঘটনাটিকে স্বজনরা পারিবারিক কলহের পরিণতি হিসেবে বর্ণনা করছেন। কিন্তু বিরোধ থেকে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি কীভাবে তৈরি হলো, সে বিষয়ে আরও তথ্য প্রয়োজন।
বিশেষ করে ঘটনার আগে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ঠিক কী ঘটেছিল, পেট্রোল কোথা থেকে আনা হয়েছিল এবং আগুন ধরানোর সময় সেখানে কারা উপস্থিত ছিলেন, এসব প্রশ্নের উত্তর ঘটনার পূর্ণ চিত্র বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে যে বাড়িতে ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি তাদের পৈতৃক বলে জানিয়েছেন আরিফুরের স্ত্রী সোনিয়া আক্তার।
পারিবারিক বিরোধের সূত্রপাত থেকে আগুনে পাঁচজনের দগ্ধ হওয়ার ঘটনা, পুরো বিষয়টি এখন নির্ভর করছে প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য এবং ঘটনার অন্যান্য তথ্যের ওপর।








