খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার মধুমঙ্গলপাড়ায় গুলিতে নিহত তিন তরুণের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হলেও এখনো সেগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব হয়নি। পরিবারের কেউ এগিয়ে না আসায় মরদেহগুলো খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার একদিন পেরিয়ে গেলেও এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে নিহতদের স্বজনদের মরদেহ গ্রহণের জন্য খবর দেওয়া হয়েছে। তবে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত পরিবারের কেউ হাসপাতাল বা থানায় যোগাযোগ করেননি। ফলে মরদেহ হস্তান্তর করা সম্ভব হয়নি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ। তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিবার এগিয়ে না এলে পুলিশ নিজেই বাদী হয়ে মামলা করবে।
সোমবার দুপুরে পানছড়ি উপজেলার চেঙ্গী ইউনিয়নের মধুমঙ্গলপাড়া এলাকায় গুলিতে নিহত হন তিন তরুণ। তারা হলেন, পদ্ম চাকমা (১৮), ধনা চাকমা (১৮) এবং রিয়েল চাকমা (১৮)।
ঘটনার পর প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানিয়েছিল, আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) মধ্যে সংঘর্ষে এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। তবে পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে পুলিশ জানায়, আঞ্চলিক রাজনৈতিক বিরোধের জেরে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে তিন তরুণকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লোগাং এলাকা থেকে একটি অটোরিকশায় করে পানছড়ি সদরের দিকে যাচ্ছিলেন ওই তিনজন। পথে মধুমঙ্গলপাড়া এলাকায় পৌঁছালে অস্ত্রধারী কয়েকজন তাদের অটোরিকশা থেকে নামিয়ে গুলি করে পালিয়ে যায়।
নিহতদের মধ্যে পদ্ম চাকমা ও ধনা চাকমার বাড়ি রাঙামাটি জেলায়। অপরদিকে রিয়েল চাকমার বাড়ি খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলায়।
ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ তিনটি মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি দুটি লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলি, ১৪টি ব্যবহৃত গুলির খোসা এবং চারটি তাজা গুলি জব্দ করেছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
পানছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, নিহতদের পরিবারের কেউ এখনো মরদেহ নিতে আসেননি। পুলিশ মরদেহ হস্তান্তরের জন্য তাদের অপেক্ষা করছে।
এদিকে এ ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছে পার্বত্য চট্টগ্রামের দুই আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠন জেএসএস ও ইউপিডিএফ। সংগঠন দুটির দাবি, নিহত তিন তরুণ কিংবা হামলাকারীদের কেউই তাদের সদস্য নন।








