মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

সবশেষ

সাভারে এনসিপির সমাবেশে বিস্ফোরণ: মামলা দায়ের, যুবলীগের দুই নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার

সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জুলাই পদযাত্রা শেষে আয়োজিত সমাবেশে বিস্ফোরণের ঘটনায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা হয়েছে। একই ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত যুবলীগের দুই নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার দিবাগত রাতে এনসিপির ঢাকা জেলা উত্তরের সদস্যসচিব মো. সালামত উল্লাহ সাভার মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস ও ট্রাফিক উত্তর) মো. জাহাঙ্গীর আলম।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, বিস্ফোরণের ঘটনায় কোনো নিষিদ্ধ গোষ্ঠীর সংঘবদ্ধ সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এ অভিযোগের ভিত্তিতে গোয়েন্দা পুলিশ দুই সন্দেহভাজনকে আটক করে পরে মামলায় গ্রেপ্তার দেখায়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার পূর্ব ভাকুম গ্রামের বাসিন্দা মো. নুরুল ইসলাম (৫২) এবং সাভার পৌর এলাকার আনন্দপুর মহল্লার বাসিন্দা মো. সজীব (৩২)।

ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (উত্তর) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল ইসলাম জানান, সোমবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে সাভারের আনন্দপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, নুরুল ইসলাম সিংগাইর উপজেলার একটি ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং সজীব সাভার যুবলীগের কর্মী। পরে তাদের সাভার মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়।

ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) শামীমা পারভীন বলেন, গোয়েন্দা পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে দুজনকে আটক করেছিল। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে বলা হয়েছে, এনসিপির পূর্বঘোষিত জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচির অংশ হিসেবে সাভার মডেল থানার তারাপুর ঈদগাহ মাঠে একটি সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যার পর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয় এবং রাত সাড়ে ৯টার দিকে দলের আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন এবং উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা সেখানে পৌঁছান।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, কেন্দ্রীয় নেতারা মঞ্চে ওঠার পাঁচ থেকে ১০ মিনিট আগে হঠাৎ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পুরো সমাবেশস্থল অন্ধকার হয়ে যায়। পরে জেনারেটরের মাধ্যমে সীমিত আলোর ব্যবস্থা করা হলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। আয়োজকরা বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সফল হননি।

এরপর রাত আনুমানিক ৯টা ৪২ মিনিটে নেতাদের বক্তব্য চলাকালে মঞ্চের ১০ থেকে ১৫ ফুট সামনে আকস্মিক বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পর চারদিকে সাদা ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে এবং আতঙ্কে উপস্থিত লোকজন ছুটোছুটি শুরু করেন। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন, যাদের মধ্যে কেউ কেউ রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত হয়েছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার পর সমাবেশ সংক্ষিপ্ত করে এনসিপির নেতা-কর্মীরা মামলা দায়েরের উদ্দেশ্যে সাভার মডেল থানায় যান। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা এবং সমাবেশে উপস্থিত সাধারণ মানুষকে হত্যার উদ্দেশ্যেই ওই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *