মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

সবশেষ

উজানে ভারী বৃষ্টির প্রভাব, ৭২ ঘণ্টায় বাড়তে পারে নদীর পানি; ১২ জেলায় বন্যার শঙ্কা

উজান ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে আগামী তিন দিনে দেশের কয়েকটি নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। এর মধ্যে তিস্তা নদীর পানি আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ১২ জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের প্রকাশিত বৃষ্টিপাত ও নদ-নদীর পরিস্থিতি বিষয়ক পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশের প্রধান নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মঙ্গলবার সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী, পর্যবেক্ষণাধীন কোনো নদীর পানি এখনো বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। দেশের ১২৭টি পানি সমতল পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের মধ্যে ৩৮টিতে পানি বেড়েছে, ৮৬টিতে কমেছে এবং তিনটি কেন্দ্রে পানির অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি।

পাউবো জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগে অতি ভারী এবং সিলেট ও বরিশাল বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। একই সময়ে ভারতের মেঘালয় ও ত্রিপুরা অঞ্চলেও উল্লেখযোগ্য বৃষ্টি হয়েছে। আগামী চার দিন চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগ এবং ভারতের ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গের কিছু এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে ভারতের উড়িষ্যা ও সংলগ্ন দক্ষিণ ঝাড়খণ্ড এলাকায় থাকা মৌসুমি নিম্নচাপটি উত্তর-পশ্চিম দিকে সরে দুর্বল হয়ে বর্তমানে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ২৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে চট্টগ্রামে। এছাড়া চট্টগ্রামের নারায়ণহাটে ১৬৫ মিলিমিটার, কক্সবাজারের টেকনাফে ১৫৮ মিলিমিটার, কক্সবাজারে ১২৯ মিলিমিটার, চট্টগ্রামের রামগড়ে ১০৫ মিলিমিটার, বান্দরবানে ১০২ মিলিমিটার, সুনামগঞ্জের মহেশখোলায় ১০১ মিলিমিটার, চট্টগ্রামের পাঁচপুকুরিয়ায় ৯৫ মিলিমিটার, বান্দরবানের লামায় ৯৩ মিলিমিটার এবং ফেনীর পরশুরামে ৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

উজানে ভারতের মেঘালয়ের মাওকিরওয়াতে ১৫৩ মিলিমিটার, আর কে এম সোহরায় ১৪১ মিলিমিটার, চেরাপুঞ্জিতে ১৩৩ মিলিমিটার এবং দক্ষিণ ত্রিপুরার সাবরামে ৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এসব বৃষ্টির পানি দেশের উজানের নদ-নদীর পানির স্তর বাড়াতে পারে।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় গোমতী, মুহুরি, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। এর ফলে বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির কিছু এলাকায় নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে অস্থায়ী বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

দক্ষিণাঞ্চলের লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নদীসংলগ্ন নিচু এলাকাতেও সাময়িক প্লাবনের আশঙ্কা করা হয়েছে।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার কিছু এলাকায় নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

রংপুর অঞ্চলে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানিও দ্রুত বাড়তে পারে। এর মধ্যে তিস্তার পানি আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিপৎসীমা পার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে নীলফামারী ও লালমনিরহাটের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।

একই সময়ে ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের কিছু এলাকায় সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে। এতে নদীর আশপাশের নিচু এলাকাগুলো সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিকে ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি আগামী তিন দিন কমতে পারে, এরপর আবার বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গঙ্গার পানি তিন দিন স্থিতিশীল থাকার পর বাড়তে পারে। তবে পদ্মার পানি আগামী পাঁচ দিন কমার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, এ সময়ে দেশের প্রধান নদ-নদীগুলো বিপৎসীমার নিচ দিয়েই প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *