বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

সবশেষ

রিক্রুটিং এজেন্সির গ্রেডিং নিয়ে দ্বিমত, শৃঙ্খলার আশা দেখছে সরকার, সিন্ডিকেটের আশঙ্কা উদ্যোক্তাদের

বিদেশগামী কর্মীদের প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা করতে দেশের নিবন্ধিত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে গ্রেডিং বা বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত এ ব্যবস্থার মাধ্যমে বিদেশ যেতে আগ্রহীরা বিএমইটির ওয়েবসাইটে এজেন্সির মান যাচাই করে প্রতিষ্ঠান বেছে নিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক। তবে এ উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও এর বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বায়রার সাবেক নেতারা। তাদের মতে, এতে নতুন উদ্যোক্তাদের সুযোগ সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি শ্রমবাজার কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত রিক্রুটিং এজেন্সির সংখ্যা ২ হাজার ৮৩৬। এসব প্রতিষ্ঠানের অতীত কার্যক্রম মূল্যায়ন করে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। উদ্দেশ্য, বিদেশগামীদের জন্য নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করা এবং প্রতারণা কমিয়ে খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা।

প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, বিদেশ যাওয়ার আশায় অনেক মানুষ রিক্রুটিং এজেন্সিকে অর্থ দিয়ে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে সরকারকে সালিশি ভূমিকা পালন করতে হচ্ছে। তার মতে, লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানগুলোর গ্রেডিং করা গেলে এই খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সহজ হবে। তিনি আরও জানান, যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দেশের মানুষের জন্য ভালোভাবে কাজ করছে, তাদের একটি মূল্যায়ন কাঠামোর আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

সরকারের এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের নানা অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগ। ২০২৩ সালে নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা মোহাম্মদ নাদিম বিদেশ যাওয়ার জন্য একটি রিক্রুটিং এজেন্সির কাছে অর্থ জমা দিলেও শেষ পর্যন্ত ভিসা কিংবা বিএমইটির ছাড়পত্র পাননি। তার মতো আরও অনেকেই বিদেশে কর্মসংস্থানের আশায় সর্বস্ব হারিয়েছেন। কেউ দালালের খপ্পরে পড়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন, কেউ জিম্মি হয়েছেন বিদেশে, আবার কেউ প্রাণ হারিয়েছেন ভূমধ্যসাগর বা মরুভূমি পাড়ি দিতে গিয়ে।

তবে গ্রেডিং ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বায়রার সাবেক নেতারা। সংগঠনটির সাবেক সভাপতি মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, আজ যে প্রতিষ্ঠান ‘সি’ ক্যাটাগরিতে রয়েছে, ভবিষ্যতে ভালো কাজ করে তারা এগিয়ে আসতে পারে। তাই সরকার যদি গ্রেডিং চালু করতে চায়, তাহলে তা বাস্তবায়নের আগে ব্যাপক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা প্রয়োজন।

একই ধরনের মত দিয়েছেন বায়রার সাবেক মহাসচিব মো. ফখরুল ইসলাম। তার ভাষ্য, কোনো প্রতিষ্ঠানকে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে রাখলেই যে তারা কখনো অনিয়ম করবে না, তার নিশ্চয়তা নেই। আবার ‘সি’ ক্যাটাগরির প্রতিষ্ঠান ভালো কাজ করতে পারবে না, এমন ধারণাও সঠিক নয়। পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তাদের জন্যও সমান সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা উচিত।

অর্থনীতিবিদরাও মনে করছেন, শুধু গ্রেডিং ব্যবস্থা চালু করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। অনিয়মে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন হবে।

র‌্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর কার্যক্রম শেষ পর্যন্ত শ্রমিকদের জন্য কতটা উপকারী হবে, নাকি তারা আরও বেশি ভোগান্তিতে পড়বেন, তা অনেকটাই সরকারের সদিচ্ছা এবং কার্যকর তদারকির ওপর নির্ভর করবে।

উল্লেখ্য, প্রবাসী শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের অভিযোগে ২০২৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত কয়েক দফায় মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *