বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

সবশেষ

চার মাসেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি ৭৫.৩ শতাংশের সমর্থন

দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় চার মাসের মাথায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক মূল্যায়ন দিয়েছেন দেশের বেশিরভাগ মানুষ। গবেষণা প্রতিষ্ঠান দ্য ডেল্টাগ্রামের পরিচালিত এক জাতীয় জনমত জরিপে দেখা গেছে, উত্তরদাতাদের ৭৫ দশমিক ৩ শতাংশ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের ধরনকে সমর্থন করছেন।

জরিপ অনুযায়ী, ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ উত্তরদাতা সরকারের কর্মকাণ্ডে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আর ৭ দশমিক ২ শতাংশ এ বিষয়ে কোনো মতামত দেননি।

ডেল্টাগ্রাম জানায়, গত ১২ থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত সারাদেশে ৩ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের অংশগ্রহণে জরিপটি পরিচালিত হয়। বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় চার মাস পর জনমতের এই মূল্যায়ন করা হয়েছে।

অঞ্চলভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, রংপুর বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সমর্থনের হার সবচেয়ে বেশি, ৮৩ দশমিক ১ শতাংশ। বিপরীতে সবচেয়ে কম সমর্থন পাওয়া গেছে ঢাকা বিভাগে, যেখানে এ হার ৭০ দশমিক ৪ শতাংশ।

শহর ও গ্রামের উত্তরদাতাদের মতামতের মধ্যেও কিছু পার্থক্য দেখা গেছে। গ্রামীণ এলাকায় ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ প্রধানমন্ত্রীর কাজের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে শহরাঞ্চলে এ হার ৭০ দশমিক ১ শতাংশ।

বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে প্রায় সব শ্রেণির মানুষের মধ্যে সমর্থনের হার কাছাকাছি থাকলেও ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে তা তুলনামূলক কম। এ বয়সী উত্তরদাতাদের ৭০ দশমিক ৯ শতাংশ প্রধানমন্ত্রীর কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করেছেন।

ডেল্টাগ্রামের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়। দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকার জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদসীমা নির্ধারণ, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রস্তাব রয়েছে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, জরিপের পরিকল্পনা, অর্থায়ন এবং বাস্তবায়নের পুরো প্রক্রিয়া তাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সম্পন্ন হয়েছে। কোনো বাহ্যিক জরিপ সংস্থার সহযোগিতা নেওয়া হয়নি। জরিপকারীদের নমুনা নির্বাচন ও প্রশ্নপত্র ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ১৫ দিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পাশাপাশি সাক্ষাৎকার সম্পন্ন হওয়া, অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি এবং যোগাযোগ ব্যর্থতার তথ্যও সংরক্ষণ করা হয়েছে।

তবে বিভাগভিত্তিক ফলাফল ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকরা। তাঁদের মতে, বিভাগভিত্তিক নমুনার আকার জাতীয় নমুনার তুলনায় ছোট হওয়ায় রংপুর ও ঢাকার সমর্থনের হারের পার্থক্য পুরোপুরি জনমতের বাস্তব চিত্র প্রতিফলিত নাও করতে পারে এবং এতে পরিসংখ্যানগত বিচ্যুতির সম্ভাবনা রয়েছে।

জরিপে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৭০ শতাংশের সাক্ষাৎকার সরাসরি এবং ৩০ শতাংশের সাক্ষাৎকার মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নেওয়া হয়। সরাসরি সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সমর্থনের হার ছিল ৭৫ দশমিক ৮ শতাংশ, আর ফোনে নেওয়া সাক্ষাৎকারে ছিল ৭৪ দশমিক ১ শতাংশ। গবেষকদের মতে, এই ব্যবধান পরিসংখ্যানগতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ নয়।

ডেল্টাগ্রাম আরও জানায়, দুই ধাপের স্তরভিত্তিক সম্ভাব্যতা নমুনা পদ্ধতিতে দেশের আট বিভাগের ১৫০টি প্রাথমিক নমুনা এলাকা থেকে প্রতিটিতে ২০টি করে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। মোট উত্তরদাতার সংখ্যা ছিল ৩ হাজার এবং সাড়া দেওয়ার হার ছিল ৭৫ দশমিক ৭ শতাংশ।

গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, জাতীয় পর্যায়ে জরিপটির সম্ভাব্য ত্রুটির সীমা ৯৫ শতাংশ নির্ভরযোগ্যতায় প্রায় ±২ দশমিক ১ থেকে ±২ দশমিক ৪ শতাংশ। তবে বিভাগভিত্তিক ফলাফলে এই ত্রুটির সীমা তুলনামূলক বেশি হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *