সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ভিডিওটিতে একটি কক্ষে এক তরুণীর সঙ্গে তাকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায়। এ ঘটনার পর মঙ্গলবার দুপুরে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেন, ভিডিওতে যাকে দেখা যাচ্ছে, তিনি তার বৈধ দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়াম বেগম। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৭ জুন পারিবারিকভাবে এবং প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমের সম্মতিতে রাজধানীতে মরিয়াম বেগমের সঙ্গে তার বিয়ে সম্পন্ন হয়।
এমপির দাবি, গত ১৩ জুলাই তিনি তার প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে রাজধানীর মগবাজারে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মো. মাসুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক অফিসে যান। সেখানে প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থানের সময় তার গাড়িচালক ও দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুল্লাহ গাড়ি দেখার কথা বলে বাইরে যান। পরে ৫ থেকে ৭ জন অপরিচিত ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে কক্ষে প্রবেশ করে তাদের জিম্মি করে এক লাখ টাকা আদায় করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
গাজী নজরুল আরও অভিযোগ করেন, যে ভাড়ার গাড়িটি তিনি ব্যবহার করতেন, সেটিও ওবায়দুল্লাহর যোগসাজশে আটকে রাখা হয়। পরে দফায় দফায় কয়েক লাখ টাকা দাবি করা হয় এবং টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তার দাবি, দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর পূর্ব থেকে পারিবারিক বিরোধ ও শত্রুতা ছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই পুরো ঘটনাটি পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল ও প্রতিহিংসার উদ্দেশ্যে তাদের স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত ও ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
ভাইরাল ভিডিওটিকে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের প্রমাণ হিসেবে যেভাবে প্রচার করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন এই সংসদ সদস্য। তার সামাজিক মর্যাদা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে, মঙ্গলবার সকালে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে গাজী নজরুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, পরে তিনি এ বিষয়ে বক্তব্য দেবেন। পরে দুপুর ১২টা ১ মিনিটে তিনি ফেসবুকে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।
এদিকে, সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আজিজুর রহমান বলেন, তাদের ধারণা অনুযায়ী ভিডিওটি ঢাকার একটি বাসার সিসিটিভি ফুটেজ থেকে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এ দাবির স্বাধীনভাবে কোনো যাচাই সম্ভব হয়নি।








