রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬

সবশেষ

ভোগান্তির পর রোম ছাড়ল বিমানের ফ্লাইট, দুপুরে ঢাকায় ফেরার কথা

প্রায় দুই দিনের ভোগান্তি শেষে ইতালির রোম থেকে ঢাকার পথে রওনা হয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের কারিগরি ত্রুটিতে আটকে থাকা ফ্লাইটটি। মেরামত কাজ শেষ হওয়ার পর উড়োজাহাজটি রোববার (৯ আগস্ট) দেশের উদ্দেশে যাত্রা করেছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী দুপুর ১২টা ২৪ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, কারিগরি ত্রুটি মেরামতের পর ফ্লাইটটি ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে এসেছে।

বিমান সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার ২৫৯ যাত্রী নিয়ে কানাডার টরন্টো থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে বিমানের ‘বিজি ৩০৬’ ফ্লাইট। শুক্রবার নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী জ্বালানি নেওয়ার জন্য ইতালির রোম বিমানবন্দরে টেকনিক্যাল স্টপওভার করে উড়োজাহাজটি। সেখানে ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর প্রায় আট ঘণ্টা ধরে সেটি সচল করার চেষ্টা করা হলেও সফলতা আসেনি। শেষ পর্যন্ত ফ্লাইটটি বাতিল ঘোষণা করা হয়।

উড়োজাহাজটি সচল করতে শনিবার বাংলাদেশ সময় রাত সোয়া ১১টার দিকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জাম নিয়ে একটি প্রকৌশলী দল ঢাকার অন্য একটি ফ্লাইটে রোমের উদ্দেশে পাঠানো হয়। রোমে পৌঁছানোর পর প্রকৌশলীরা উড়োজাহাজটি পরীক্ষা করে মেরামতের কাজ সম্পন্ন করেন। পরে সেটিকে আবার উড্ডয়নের উপযোগী করা হয়।

তবে ফ্লাইটের যান্ত্রিক সমস্যার পাশাপাশি রোম বিমানবন্দরে আটকে পড়া ২৫৯ যাত্রীকে সামলাতে গিয়ে তৈরি হয় আরেক দফা ভোগান্তি। বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের তাৎক্ষণিক ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করে ইতালিতে প্রবেশের সুযোগ না থাকায় যাত্রীদের বিমানবন্দরের বাইরে হোটেলে নেওয়া সম্ভব হয়নি। ভিসাজনিত জটিলতার কারণে তাদের দীর্ঘ সময় টার্মিনালের ভেতরেই থাকতে হয়।

যাত্রীদের অভিযোগ, রোমে অবতরণের পর প্রায় আট ঘণ্টা তাদের উড়োজাহাজের ভেতরে বসিয়ে রাখা হয়েছিল। এ সময় শিশু, প্রবীণ ও অসুস্থ যাত্রীদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি ছিল। তাদের মধ্যে অনেকে অসুস্থও হয়ে পড়েন।

পরে যাত্রীদের টার্মিনালে নেওয়া হলেও সেখানে পর্যাপ্ত ব্যবস্থাপনা ছিল না বলে অভিযোগ করেন তারা। রাত ১১টার দিকে যে লাউঞ্জের ব্যবস্থা করা হয়েছিল, সেখানে সব যাত্রীর জায়গা হয়নি। ফলে অনেককে বিমানবন্দরের মেঝে কিংবা টার্মিনালের চেয়ারে রাত কাটাতে হয়েছে।

দীর্ঘ অপেক্ষার মধ্যে খাবার ও সুপেয় পানি পেতেও যাত্রীদের বেগ পেতে হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া অনেক যাত্রীর প্রয়োজনীয় ওষুধ ও ইনসুলিন চেক-ইন করা লাগেজে থাকায় সেগুলো সময়মতো হাতে পাননি। এতে অসুস্থ যাত্রীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

কারিগরি ত্রুটি মেরামত করে অবশেষে রোম থেকে ফ্লাইটটি ঢাকার পথে ফিরেছে। ফলে দীর্ঘ অপেক্ষার পর দেশে ফেরার সুযোগ পাচ্ছেন আটকে থাকা ২৫৯ যাত্রী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *