রোম বিমানবন্দরে প্রায় ৪০ ঘণ্টার অপেক্ষা ও নানা ভোগান্তি শেষে দেশে ফিরেছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩০৬ ফ্লাইটের যাত্রীরা। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দীর্ঘ সময় আটকে থাকার পর রোববার (৯ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফ্লাইটটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
দেশে ফিরতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করলেও দীর্ঘ সময়ের দুর্ভোগ নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন যাত্রীরা। তাদের অভিযোগ, আটকে থাকার সময়ে পর্যাপ্ত খাবার, আবাসন ও জরুরি ওষুধের ব্যবস্থা না থাকায় শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ যাত্রীদের সবচেয়ে বেশি কষ্ট পোহাতে হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতিতে যাত্রীসেবার মান উন্নত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
বিজি-৩০৬ ফ্লাইটটি গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় কানাডার টরন্টো থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে। পরদিন শুক্রবার সকালে জ্বালানি নেওয়ার জন্য ফ্লাইটটি রোমের ফিউমিচিনো বিমানবন্দরে প্রায় এক ঘণ্টার নির্ধারিত বিরতিতে নামে। সেখানে উড়োজাহাজটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়লে যাত্রা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
যাত্রীদের ভাষ্য, ত্রুটি মেরামতের চেষ্টা চললেও তাদের প্রায় আট ঘণ্টা উড়োজাহাজের ভেতরেই অপেক্ষা করতে হয়। এ সময় উড়োজাহাজের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।
পরে যাত্রীদের উড়োজাহাজ থেকে নামিয়ে নেওয়া হলেও নতুন করে জটিলতায় পড়তে হয় বাংলাদেশি যাত্রীদের। অন্যান্য দেশের পাসপোর্টধারীদের হোটেলে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হলেও রোম বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমতি না থাকায় বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী প্রায় ১৭০ জন যাত্রী বিমানবন্দরের ভেতরেই আটকা পড়েন।
লাউঞ্জে সবার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় অনেক যাত্রীকে সেখানে চরম দুর্ভোগের মধ্যে সময় কাটাতে হয়। শিশু ও বয়স্কদের কষ্ট ছিল সবচেয়ে বেশি। এ সময় পর্যাপ্ত খাবার না পাওয়ার অভিযোগও করেন যাত্রীরা। পাশাপাশি জরুরি ওষুধের সংকটে পড়েন অনেকেই।
পরে বাংলাদেশ থেকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ও প্রকৌশলী দল রোমে পাঠানো হয়। তাদের তৎপরতায় উড়োজাহাজটির যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামত করা সম্ভব হয় এবং সেটিকে পুনরায় উড্ডয়নের উপযোগী করা হয়।
দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে রোববার রোম থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয় বিজি-৩০৬। প্রায় ৪০ ঘণ্টার ভোগান্তি শেষে ফ্লাইটটি ঢাকায় পৌঁছালে স্বস্তি ফেরে যাত্রীদের মধ্যে।
তবে ভবিষ্যতে কোনো ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে যাত্রীদের যেন এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়, সে জন্য দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা এবং উন্নত যাত্রীসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।








