প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সকে শুধু পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয় মেটানোর অর্থ হিসেবে না দেখে উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) বাংলাদেশ মিশনের প্রধান ড. লরা টম্ বনদ। তার মতে, প্রতিটি রেমিট্যান্সের পেছনে রয়েছে বাংলাদেশি অভিবাসীদের কঠোর পরিশ্রম, সহনশীলতা ও পরিবারের প্রতি দায়বদ্ধতার গল্প।
শনিবার (২২ আগস্ট) রাজধানীর এফডিসিতে আন্তর্জাতিক পারিবারিক রেমিট্যান্স দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি ও আইওএম বাংলাদেশ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে সহযোগিতা করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
ড. লরা টম্ বনদ বলেন, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন একজন কর্মীর জীবনেই শুধু ইতিবাচক পরিবর্তন আনে না; এর সুফল পৌঁছে যায় অভিবাসীর পরিবার, সমাজ এবং জাতীয় অর্থনীতিতেও। রেমিট্যান্সের একটি অংশ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতে বিনিয়োগ করা গেলে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিও আরও গতিশীল হবে।
তিনি বলেন, এ ধরনের বিনিয়োগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নতুন সুযোগ তৈরির পাশাপাশি অভিবাসী পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে পারে। অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকে আরও মানসম্মত করা এবং অভিবাসীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আইওএম বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আইওএম বাংলাদেশের অভিবাসন নীতি ও টেকসই উন্নয়ন বিভাগের প্রধান ড. ঈশিতা শ্রুতি।
ছায়া সংসদে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্সের অবদান এখন দৃশ্যমান। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতির পুনরুজ্জীবনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণের ভাষ্য, বাংলাদেশের কর্মক্ষম জনশক্তির প্রায় ২৫ শতাংশের কর্মসংস্থান অভিবাসনের মাধ্যমে হচ্ছে। বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকলে দেশে দারিদ্র্যের হার আরও ১০ শতাংশ বেড়ে যেত বলেও তিনি উল্লেখ করেন। রেমিট্যান্সের ফলে অভিবাসী পরিবারের সামাজিক মর্যাদা বাড়ছে এবং অনেক পরিবার দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসছে।
তিনি আরও বলেন, রেমিট্যান্সের অর্থ কেবল ভোগের পেছনে ব্যয় না করে পরিবারের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপযুক্ত খাতে বিনিয়োগ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে এসএমই খাতে বিনিয়োগ অভিবাসী পরিবারগুলোর আর্থিক সুরক্ষার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
‘এসএমই খাতে রেমিট্যান্সের বিনিয়োগ অভিবাসী পরিবারের সুরক্ষায় সর্বোত্তম কৌশল’ শীর্ষক বিতর্কে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।
বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন ড. এস এম মোর্শেদ এবং সাংবাদিক দৌলত আক্তার মালা, মাঈনুল আলম, ফারুক মেহেদী ও আহমেদ রেজা। প্রতিযোগিতা শেষে অংশ নেওয়া দুই দলের বিতার্কিকদের ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র দেওয়া হয়।








