রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬

সবশেষ

মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় সায় দিলে প্রতিবেশীদের ‘শত্রু’ ভাববে ইরান

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান অর্থনৈতিক চাপের সঙ্গে কোনো প্রতিবেশী দেশ যুক্ত হলে তাদের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। এমন দেশগুলোর বিরুদ্ধে ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে ইরান।

দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি মোহসেন রেজাই শনিবার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ সতর্কবার্তা দেন।

রেজাই বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক যুদ্ধে না জড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছে ইরান। কোনো দেশ তাতে যুক্ত হলে তেহরান তাদের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করবে।

তবে সরাসরি সংঘাতে যাওয়ার আগে আলোচনার পথেই এগোতে চায় ইরান। রেজাইয়ের ভাষ্য, প্রথমে আলোচনা করে প্রতিবেশীদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করা হবে। এরপরও যারা ওয়াশিংটনের পক্ষ নেবে, তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনার জন্য সময় দেওয়া হবে। তাতেও কাজ না হলে তৃতীয় ধাপে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কঠোর অর্থনৈতিক অভিযান চালানোর ঘোষণা দেওয়ার পরই রেজাইয়ের এই বক্তব্য এলো। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরানকে কোনো ধরনের সহায়তা বা ‘লাইফলাইন’ দেওয়া দেশগুলোকে ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতি মোকাবিলা করতে হবে।

এর একদিন পর মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও মিত্র ও অন্যান্য দেশগুলোর উদ্দেশে কঠোর বার্তা দেন। তার বক্তব্য ছিল, দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে থাকতে হবে, অথবা যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা করতে হবে।

রেজাইয়ের দাবি, অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে ইরানের অভ্যন্তরীণ ঐক্য দুর্বল করাই ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম লক্ষ্য। তার মতে, অর্থনৈতিক সংকট বাড়িয়ে দেশে বিক্ষোভ উসকে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে ইরান-মার্কিন সংঘাতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। যুদ্ধের শুরুতে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয় তেহরান। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও সারের মতো পণ্যের দাম বেড়ে যায়। পারস্য উপসাগরের কয়েকটি দেশও বিকল্প বাণিজ্যপথ খুঁজতে শুরু করে।

তেহরানের অবস্থান আরও কঠোর হলে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের সামরিক অভিযানকে সমর্থন দেওয়া ইউরোপের মার্কিন মিত্ররাও ইরানের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে। তাদের দাবি, এ ধরনের নীতির মাধ্যমে অন্য দেশগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র নিজের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

এদিকে ১৭ জুনের একটি সমঝোতা স্মারক ব্যর্থ হওয়ার পর যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে আছে। ওই সমঝোতায় অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *