রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সবশেষ

রেমিট্যান্সে সেপ্টেম্বরের গতি ধীর, তবু অর্থবছরের শুরুতে প্রবৃদ্ধি ১৩.৮ শতাংশ

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরুটা প্রবাসী আয়ের জন্য বেশ ইতিবাচক হলেও সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৯ দিনে সেই গতি অনেকটাই ধীর হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ৭৭০ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ৬৭৬ কোটি ৯০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৯৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার বা ১৩.৮ শতাংশ।

তবে সেপ্টেম্বরের চিত্রটি তুলনামূলকভাবে স্থির। চলতি মাসের ১ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১৮৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ১৮৬ কোটি ৯০ লাখ ডলার। ফলে এ সময়ে রেমিট্যান্স বেড়েছে মাত্র ৮০ লাখ ডলার, যা প্রবৃদ্ধির হিসাবে ০.৪ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ১৭ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বরে দিনে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ১৩ কোটি মার্কিন ডলার। এর আগে সেপ্টেম্বরের প্রথমার্ধে যে পরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছিল, তার সঙ্গে শেষ তিন দিনের প্রবাহ যোগ হয়ে মাসের প্রথম ১৯ দিনের মোট আয় দাঁড়িয়েছে ১৮৭ কোটি ৭০ লাখ ডলারে।

অর্থবছরের সামগ্রিক হিসাব অবশ্য ভিন্ন চিত্র দিচ্ছে। জুলাই থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৭৭০ কোটি ২০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বেশি। গত বছরের একই সময়ে ৬৭৬ কোটি ৯০ লাখ ডলার আসায় এবার অতিরিক্ত এসেছে ৯৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

অর্থাৎ অর্থবছরের শুরুতে রেমিট্যান্স প্রবাহে যে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি হয়েছে, সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৯ দিনের তুলনামূলক কম প্রবৃদ্ধি সেটিকে এখনো বড়ভাবে বদলে দেয়নি। তবে মাসের বাকি সময়ে প্রবাসী আয় কোন গতিতে আসে, তার ওপর সেপ্টেম্বরের সামগ্রিক চিত্র অনেকটাই নির্ভর করবে।

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহে রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের প্রবাহ বাড়লে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য ও আমদানি ব্যয় মেটানোর সক্ষমতায় ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ কমাতেও রেমিট্যান্স সহায়ক ভূমিকা রাখে। দেশের পরিবারগুলোর ভোগ, সঞ্চয় ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও এ অর্থের সরাসরি প্রভাব রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রবাসীদের বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়া আরও সহজ ও প্রতিযোগিতামূলক করা গেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। দ্রুত ব্যাংকিং সেবা, উন্নত গ্রাহকসেবা এবং বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে কার্যকর প্রণোদনা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সব মিলিয়ে, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রায় তিন মাসে রেমিট্যান্সে ১৩.৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। যদিও সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৯ দিনে প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ০.৪ শতাংশে। এখন নজর থাকবে মাসের বাকি দিনগুলোতে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বাড়ে কি না এবং সেপ্টেম্বরের সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি কোন পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *