মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সবশেষ

ভাগ্য বদলাতে ঋণ করে মালয়েশিয়ায়, বজ্রপাতে প্রাণ গেল প্রবাসীর

ভাগ্য বদলানোর আশায় প্রায় তিন বছর আগে ঋণ করে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার হিরন মিয়া। দেশে গাছ কাটার কাজ করতেন। বিদেশে গিয়ে একটি কোম্পানির অধীনে বাগানে শ্রমিকের কাজ শুরু করেছিলেন। কিন্তু প্রবাসজীবনের সেই সংগ্রামের শেষ হলো বাগানে কাজ করার সময় বজ্রপাতে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টার দিকে মালয়েশিয়ায় বজ্রপাতে মারা যান ৪০ বছর বয়সী মো. হিরন মিয়া। তিনি কসবা উপজেলার খাড়েরা ইউনিয়নের মনকাশাইর গ্রামের মৃত সামছুল হকের ছেলে।

বাগানে কাজ করার সময় বজ্রপাতের শিকার হন হিরন। পরে সহকর্মীরা তার মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। বর্তমানে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন তার সহকর্মীরা।

ঋণের বোঝা নিয়ে বিদেশে, ফিরছেন নিথর হয়ে
হিরনের বড় ভাই মো. খোকন মিয়া জানান, সংসারের আর্থিক অবস্থা বদলানোর আশায় ধার-দেনা করে প্রায় তিন বছর আগে মালয়েশিয়ায় যান হিরন। একটি কোম্পানির অধীনে বাগান শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন তিনি।

বিদেশে যাওয়ার সময় যে ঋণের বোঝা কাঁধে নিয়েছিলেন, সেই জীবনযুদ্ধে আর ঘরে ফেরা হলো না তার। এখন পরিবারের চাওয়া, দ্রুত মরদেহ দেশে এনে শেষবারের মতো স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া।

মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে হিরনের পরিবার।

তিন সন্তানের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত
চার ভাইয়ের মধ্যে হিরন ছিলেন সবার ছোট। তার ঘরে রয়েছে এক ছেলে ও দুই মেয়ে। ছেলে ইকরাম হোসেন আমির দশম শ্রেণিতে পড়ছে। দুই মেয়ে হিমু আক্তার ষষ্ঠ শ্রেণিতে এবং রিমু আক্তার তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।

বাবার মৃত্যুর খবর তাদের জন্য যেমন আকস্মিক, তেমনি পরিবারের কাছেও সামনে এখন বড় বাস্তবতা, প্রবাসে থাকা একজন উপার্জনক্ষম মানুষের শূন্যতা।

হিরনের স্ত্রী হ্যাপি আক্তার স্বামীর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন। ৭৫ বছর বয়সী মা জাহানারা বেগমও ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে বারবার মাটিতে লুটিয়ে পড়ছেন। স্বজনদের আহাজারিতে মনকাশাইর গ্রামে নেমে এসেছে শোকের আবহ।

এক পরিবারের শোক যেন থামছেই না
স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য বাবুল মিয়ার ভাষ্য, হিরন অনেক ঋণ করে কষ্টের মধ্যে বিদেশে গিয়েছিলেন। এরই মধ্যে কিছুদিন আগে নিহামনি নামে তার ছোট একটি মেয়ে মারা যায়।

একদিকে প্রবাসে উপার্জনের সংগ্রাম, অন্যদিকে পরিবারের একের পর এক মৃত্যু, হিরনের মৃত্যুর পর সেই শোক আরও ভারী হয়ে উঠেছে।

প্রশাসনের আশ্বাস
কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ছামিউল ইসলাম বলেন, হিরনের মৃত্যুর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে সহযোগিতার পাশাপাশি মরদেহ দেশে আনার ক্ষেত্রেও সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।

এখন পরিবারের অপেক্ষা, মালয়েশিয়ার মাটি থেকে হিরনের মরদেহ কবে ফিরবে নিজ গ্রামে, যেখানে স্ত্রী-সন্তান আর বৃদ্ধা মা অপেক্ষা করছেন তার শেষ বিদায়ের জন্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *