গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি বাড়িতে ভোররাতে একদল লোক প্রবেশের পর নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় তাদের ভয় দেখিয়ে নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়। প্রায় এক ঘণ্টা বাড়িতে অবস্থানের পর তারা চলে যায়।
ঘটনার পর পরিবারের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে পুলিশের বক্তব্যেও রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, এ মুহূর্তে ঘটনাটিকে সরাসরি ডাকাতি হিসেবে নিশ্চিত করেনি পুলিশ। ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তদন্তের পর বিষয়টি পরিষ্কার হবে বলে জানিয়েছে শ্রীপুর থানা।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের কাওরাইদ গ্রামের ফকির পাড়া এলাকায় কুয়েতপ্রবাসী আমিনুল ইসলামের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
আমিনুল ইসলাম ওই গ্রামের সানাউল্লাহ মীরধার ছেলে। আট বছরের বেশি সময় ধরে তিনি কুয়েতে থাকেন। বাড়িতে তার স্ত্রী ফাতেমা আক্তার, চার বছরের মেয়ে মারিয়া আক্তার ও শাশুড়ি পারভীন আক্তার বসবাস করেন।
ঘটনার শুরু যেভাবে
পরিবারের সদস্য পারভীন আক্তারের বর্ণনা অনুযায়ী, রাত ৩টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি বাড়ির সীমানা পেরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর তারা বারান্দার গ্রিলের তালা ভেঙে ঘরে ঢোকেন।
শব্দ পেয়ে ঘুম ভাঙার পর তিনি দেখতে পান, পরিবারের সদস্যদের ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে রাখা হয়েছে। পরে ঘরের আলমারি ও কেবিনেটের চাবি চাওয়া হয়।
পারভীনের ভাষ্য, পরিস্থিতির কারণে পরিবারের সদস্যরা বাধ্য হয়ে চাবি দিয়ে দেন। এরপর ঘর থেকে নগদ ৪২ হাজার টাকা, আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার, মেয়ের বিয়ের শাড়ি ও জামাসহ বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে যাওয়া হয়।
পরিবারটির দাবি, খোয়া যাওয়া মালামালের মোট মূল্য প্রায় ছয় লাখ টাকা।
প্রায় এক ঘণ্টা বাড়িতে অবস্থান
ঘটনাটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তিরা তাৎক্ষণিকভাবে বাড়ি থেকে চলে যাননি। তারা প্রায় এক ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করেন।
পারভীন আক্তার জানান, একপর্যায়ে তারা বাড়ি থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে চিৎকারের চেষ্টা করা হলে আবারও ভয় দেখানো হয়। পরে তারা চলে যায়।
ঘটনার সময় পারভীন আক্তার আহত হয়েছেন বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
পুলিশ এখনো ডাকাতি নিশ্চিত করেনি
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাটিকে তাৎক্ষণিকভাবে ডাকাতি হিসেবে চূড়ান্ত করেনি পুলিশ।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিনুর আলম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ফেরার পর বলা যাবে, এটি চুরি নাকি ডাকাতির ঘটনা।
অর্থাৎ, পরিবারের দাবি অনুযায়ী লুট হওয়া মালামালের পরিমাণ, কীভাবে বাড়িতে প্রবেশ করা হয়েছিল এবং ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়ার কথা।
সামনে যেসব প্রশ্ন
ঘটনার তদন্তে তাই কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, বাড়িতে প্রবেশের পথ কী ছিল, সীমানা ও গ্রিলের তালা ভাঙার বিষয়টি কীভাবে ঘটেছে, পরিবারের বর্ণনার সঙ্গে ঘটনাস্থলের আলামত কতটা মেলে এবং খোয়া যাওয়া মালামালের দাবিকৃত পরিমাণ কতটা যাচাই করা যায়।
পাশাপাশি, ভোররাতে বাড়িটির আশপাশে কারা অবস্থান করছিলেন এবং ঘটনার পর তারা কোন পথে সরে গেছেন, এসব তথ্যও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
তবে এসব প্রশ্নের কোনোটি সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর তদন্তের ভিত্তিতেই ঘটনার প্রকৃত ধরন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছে।








