সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

সবশেষ

১৮ বছর পর দেশে ফিরে বাড়িতে স্থায়ী বসবাসের চিন্তা, সীমানা বিরোধে প্রবাসী দম্পতিকে কুপিয়ে জখম!

কয়েক মাস আগে দীর্ঘ প্রবাসজীবন শেষে দেশে ফিরে নিজেদের বসতবাড়িতে স্থায়ীভাবে থাকতে শুরু করেন ফয়েজ আহমেদ প্রধান ও তার স্ত্রী শেফালী আক্তার। কিন্তু বাড়ির সীমানা নিয়ে আপন বড় ভাইয়ের সঙ্গে বিরোধের জেরে এবার তারা ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়ার কথা জানিয়েছেন চিকিৎসক।

রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার মন্থন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত ফয়েজ আহমেদ প্রধান (৩৮) ও তার স্ত্রী শেফালী আক্তারকে (৩৪) প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়।

বিরোধের কেন্দ্রে বাড়ির সীমানা
স্থানীয় বাসিন্দা জামাল উদ্দিনের বক্তব্য অনুযায়ী, ফয়েজ ও শেফালী প্রায় ১৮ বছর লেবাননে ছিলেন। কয়েক মাস আগে দেশে ফিরে তারা নিজেদের বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। তাদের বাড়ির পাশেই ফয়েজের বড় ভাই নজরুল ইসলাম প্রধানের বাড়ি। দুই পরিবারের মধ্যে বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছিল।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, রোববার মাগরিবের নামাজের পর সীমানা বুঝিয়ে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। সেই বিরোধের একপর্যায়ে ফয়েজ ও শেফালীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

জামাল উদ্দিনের অভিযোগ, নজরুল ইসলাম প্রধান, তার স্ত্রী সাহানারা আক্তার ও ছেলে রাতুল ইসলাম প্রধান ধারালো অস্ত্র দিয়ে ফয়েজ ও শেফালীকে কুপিয়ে আহত করেন। তবে ঘটনার সময় কীভাবে হামলা শুরু হয়েছিল, সে বিষয়ে অন্য কোনো প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

চিকিৎসকের বক্তব্যে আঘাতের তথ্য
দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী শল্যচিকিৎসক নাহিদ হাসান জানান, আহত দুজনের হাত, কানসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। তাদের শরীরে মারধরের চিহ্নও পাওয়া গেছে।

প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

যেসব বিষয়ের নিষ্পত্তি হয়নি
ঘটনার পেছনে বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধের কথা স্থানীয় সূত্রে উঠে এলেও জমির সীমানা নির্ধারণ নিয়ে বিরোধের বিস্তারিত, সংশ্লিষ্ট জমির মালিকানা-সংক্রান্ত নথি কিংবা এর আগে কোনো সালিস বা সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে নজরুল ইসলাম প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে তার বা তার পরিবারের পক্ষের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাটিকে পারিবারিক বিরোধ থেকে সৃষ্ট হামলার অভিযোগ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। তবে অভিযোগের সত্যতা, হামলায় কারা জড়িত এবং সীমানা নিয়ে বিরোধের প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *