প্রবাসীদের অবদানকে শুধু রেমিট্যান্সের হিসাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তাদের মেধা, অভিজ্ঞতা ও বিনিয়োগ সক্ষমতাকে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, প্রবাসে সফল ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের দেশে শিল্পপ্রতিষ্ঠান, কৃষি, পর্যটন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশ সিআইপি বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘সিআইপি (এনআরবি) সম্মাননা ২০২৬’ অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, প্রবাসীরা বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। পরিবার-পরিজন থেকে দূরে থেকে বিদেশের মাটিতে কঠোর পরিশ্রম করে তারা যে অর্থ দেশে পাঠান, তা লাখ লাখ পরিবারের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। তবে তাদের অবদান শুধু রেমিট্যান্স পাঠানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বিদেশে ব্যবসা পরিচালনা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সম্পৃক্ত হওয়ার মাধ্যমে তারা দেশের জন্য নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও তৈরি করছেন।
দেশে বিনিয়োগ বাড়িয়ে কর্মসংস্থান তৈরির আহ্বান
অনুষ্ঠানে সম্মাননাপ্রাপ্ত অনাবাসী বাংলাদেশি (এনআরবি) সিআইপিদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, দেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে শুধু বাড়িঘর নির্মাণের দিকে মনোযোগী হলে চলবে না। উৎপাদনমুখী ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন।
বিশেষ করে শিল্প, কৃষি, পর্যটন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে প্রবাসীদের বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। এসব খাতে তাদের অভিজ্ঞতা ও পুঁজি কাজে লাগানো গেলে দেশে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিধিও বাড়বে।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের উপস্থিতি বাড়াতে প্রবাসী ব্যবসায়ীদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। বিদেশের কোন দেশে কী ধরনের দক্ষ কর্মীর চাহিদা রয়েছে, সে তথ্য সরকারকে জানিয়ে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরিতেও সহযোগিতা করতে বলেন। সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে প্রবাসীদের আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন মন্ত্রী।
প্রবাসীদের জন্য চালুর পরিকল্পনা ‘প্রবাসী কার্ড’
প্রবাসীদের মর্যাদা ও পরিচয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরকারি সেবা পাওয়া সহজ করতে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথা জানান প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা সরকারি বিভিন্ন সেবা ও সহযোগিতা সহজে পাওয়ার সুযোগ পাবেন। প্রবাসীদের কল্যাণ এবং তাদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
আমিরাতের সঙ্গে বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়ানোর প্রত্যাশা
সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে দেশটির রাষ্ট্রপতি, সরকারপ্রধান ও সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হবে।
দেশের শ্রম পরিস্থিতির কারণে অনুষ্ঠানে সরাসরি উপস্থিত হতে না পারার কথা জানিয়ে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন মন্ত্রী। এ সময় সম্মাননাপ্রাপ্ত সিআইপি এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান তিনি।
একই সঙ্গে প্রবাসীদের বিদেশের মাটিতে নিজ নিজ দেশের আইনকানুন মেনে চলার পরামর্শ দেন। তাদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে যেন বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যারা
বাংলাদেশ সিআইপি বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. এনামুল হক।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন আবুধাবিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদ, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সদস্য ড. আব্দুল্লাহ আল কিন্ধি এবং দুবাইয়ে নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল রাশেদুজ্জামান।
অনুষ্ঠানের সফল আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ সিআইপি বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনকে ধন্যবাদ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রবাসীদের মেধা, শ্রম ও বিনিয়োগকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগাতে পারলে একটি সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।








