যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের প্রতিনিধিত্ব ধরে রাখার চিত্র দেখা গেছে এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে। জর্জিয়া, কানেকটিকাট ও নিউ হ্যাম্পশায়ারের আইনসভায় জয় পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তিন রাজনীতিক। তাদের মধ্যে দুজন ডেমোক্র্যাট এবং একজন রিপাবলিকান দলের প্রার্থী।
বিজয়ীরা হলেন জর্জিয়ার স্টেট সিনেটর শেখ রহমান, কানেকটিকাটের এমডি মাসুদুর রহমান এবং নিউ হ্যাম্পশায়ারের আবুল বি খান। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর সমর্থকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও আনন্দ উদ্যাপনে অংশ নেন তারা। এ জয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যেও আনন্দ-উৎসাহ দেখা দিয়েছে।
জর্জিয়ায় আবারও নির্বাচিত শেখ রহমান
জর্জিয়ার স্টেট সিনেটের ৫ নম্বর আসনে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী শেখ রহমান। কিশোরগঞ্জে জন্ম নেওয়া এই রাজনীতিক ২০১৮ সালে প্রথমবারের মতো অঙ্গরাজ্যটির সিনেটর নির্বাচিত হন। তিনি জর্জিয়ার ইতিহাসে প্রথম মুসলিম ও এশীয় বংশোদ্ভূত স্টেট সিনেটর।
নতুন করে নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে জর্জিয়ার আইনসভায় নিজের অবস্থান ধরে রাখলেন তিনি।
কানেকটিকাটে জয় ধরে রাখলেন মাসুদুর রহমান
কানেকটিকাটের স্টেট সিনেটের ৪ নম্বর আসনেও জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী এমডি মাসুদুর রহমান। নির্বাচনে তিনি রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী জেন জেনিংসকে পরাজিত করেন।
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের সন্তান মাসুদুর রহমান ২০২২ সালে প্রথমবারের মতো স্টেট সিনেটর নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবারের নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি অঙ্গরাজ্যটির আইনসভায় নিজের প্রতিনিধিত্ব অব্যাহত রাখলেন।
নিউ হ্যাম্পশায়ারে আইনসভায় আবুল বি খান
অন্যদিকে, নিউ হ্যাম্পশায়ারের রকিংহাম-৩০ আসনে স্টেট হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন রিপাবলিকান প্রার্থী আবুল বি খান। পিরোজপুরের সন্তান আবুল খান দীর্ঘদিন ধরে অঙ্গরাজ্যটির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।
এবারের নির্বাচনে জয়ী হয়ে অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় নিজের প্রতিনিধিত্ব ধরে রেখেছেন তিনি।
দুই দলের রাজনীতিতে বাংলাদেশি প্রতিনিধিত্ব
তিন রাজনীতিকের বিজয়ের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব করছেন। শেখ রহমান ও এমডি মাসুদুর রহমান ডেমোক্র্যাট দলের এবং আবুল বি খান রিপাবলিকান দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।
তাদের এই সাফল্য যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতা তুলে ধরেছে। অভিবাসী জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রেও এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ।
তবে তিনজনের নির্বাচনী সাফল্যকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের সামগ্রিক অবস্থানের প্রতিফলন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। দেশটির বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচনে তাদের অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্বের বিস্তৃতি বুঝতে আরও তথ্য-উপাত্ত প্রয়োজন।








