রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

সবশেষ

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৭ বাংলাদেশির পরিচয় জানা‌ল কনস্যুলেট

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় একই গাড়িতে থাকা তিন বাংলাদেশি পরিবারের সাত সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একটি পরিবারের চারজনই রয়েছেন। দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ছয়জনের কেউ এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, কেউ প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ফিরেছেন। তবে কী কারণে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়, তা নিয়ে চালক ও সৌদি ট্রাফিক কর্মকর্তাদের বক্তব্যে ভিন্নতা পাওয়া গেছে। প্রাথমিক তদন্তে ঘণ্টায় প্রায় ১৬০ কিলোমিটার গতিতে গাড়ি চলার তথ্য উঠে এলেও চালকের দাবি, টায়ার ফেটে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।

রোববার (৮ নভেম্বর) জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের দেওয়া তথ্য থেকে দুর্ঘটনার ভয়াবহতা, হতাহতদের পরিচয় এবং তদন্তের প্রাথমিক চিত্র সামনে এসেছে। হতাহত ১৩ বাংলাদেশির সবার বাড়ি কক্সবাজার জেলায়।

কনস্যুলেটের তথ্য অনুযায়ী, মদিনা থেকে জেদ্দায় ফেরার পথে আল-হিমনা এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। গাড়িটিতে তিনটি পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি সৌদি আরবের আল-আবির কোম্পানিতে কর্মরত চার বাংলাদেশিও ছিলেন।

এক গাড়িতে তিন পরিবার, নিহত সাতজন
দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জিয়াউর রহমানের পরিবার। পরিবারের চার সদস্যই প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতরা হলেন জিয়াউর রহমান, তার মেয়ে বুশরা এবং দুই ছেলে ইয়াসির ও ইয়াযান। তাদের মরদেহ আল-হিমনা জেনারেল হাসপাতালে রাখা হয়েছে।

এ পরিবারের আহত দুজন হলেন জিয়াউর রহমানের স্ত্রী শাকিরা ও মেয়ে ইউসরা। শাকিরা খোলাইস জেনারেল হাসপাতালে এবং ইউসরা জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

দ্বিতীয় পরিবারটির নিহত দুজন হলেন আলম শাহের স্ত্রী সানজিদা ও মেয়ে ফারিয়া। তাদের মরদেহ যথাক্রমে আল-হিমনা ও খোলাইস জেনারেল হাসপাতালে রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনায় আহত আলম শাহ প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। তার ছেলে ফায়সাল ইস্ট জেদ্দা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

তৃতীয় পরিবারটির সদস্য ইলিয়াসের স্ত্রী আফসানা বিবিও প্রাণ হারিয়েছেন। কয়েকদিন আগে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন তিনি। তার মরদেহ খোলাইস জেনারেল হাসপাতালে রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনায় আহত ইলিয়াস প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছেন।

এ ছাড়া আহত গফুর আলম খোলাইস জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে তদন্তে প্রশ্ন
দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো গাড়ির গতিবেগ। কনস্যুলেটের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, গাড়িটি চালাচ্ছিলেন পাকিস্তানের একজন নাগরিক। দুর্ঘটনার সময় গাড়িটির গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১৬০ কিলোমিটার।

খোলাইস ট্রাফিক অফিসের কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা, অতিরিক্ত গতির কারণে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে গাড়িটি উল্টে যায়। তবে চালক দাবি করেছেন, টায়ার ফেটে যাওয়ার কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।

দুটি বক্তব্যের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। গাড়ির গতি, টায়ারের অবস্থা এবং চালকের নিয়ন্ত্রণ হারানোর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে কারিগরি ও তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য প্রয়োজন। ফলে প্রাথমিক ধারণার ভিত্তিতে দুর্ঘটনার চূড়ান্ত কারণ নির্ধারণের সুযোগ নেই। সৌদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

কর্মস্থলের চার কর্মী ছিলেন গাড়িতে
কনস্যুলেটের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িতে আল-আবির কোম্পানিতে কর্মরত চার বাংলাদেশি কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা ছিলেন। কোম্পানিটির মক্কা শাখার ম্যানেজার সালমান এ তথ্য জানিয়েছেন।

দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়। কনস্যুলেটের কাউন্সেলর (শ্রম) একজন আইন সহকারীকে সঙ্গে নিয়ে খোলাইস ট্রাফিক অফিসে যান। সেখানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে দুর্ঘটনার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন।

নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে কনস্যুলেট।

তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয়নি। একই সঙ্গে নিহতদের মরদেহ দেশে পাঠানোর নির্দিষ্ট সময়সূচিও জানা যায়নি। সৌদি কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রতিবেদন এবং মরদেহ ফেরানোর প্রক্রিয়ার অগ্রগতি এখন গুরুত্বপূর্ণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *