কানাডায় স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পেতে আগামী তিন বছরে ১১ লাখ ৪০ হাজার নতুন অভিবাসী গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে দেশটির সরকার। তবে এই বিপুলসংখ্যক অভিবাসী নেওয়ার পরিকল্পনায় সবার জন্য সমান সুযোগ থাকছে না। বরং কানাডার শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণে সক্ষম দক্ষ কর্মী, প্রাদেশিক মনোনয়নপ্রাপ্ত এবং অর্থনৈতিক অভিবাসন কর্মসূচির আওতাভুক্ত আবেদনকারীদের বেশি গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে দেশটিতে স্থায়ী বসবাসের স্বপ্ন দেখছেন যারা, তাদের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা ও ভাষাগত দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
গত ৫ নভেম্বর ২০২৭-২০২৯ সালের নতুন অভিবাসন পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে কানাডার ফেডারেল সরকার। এতে আগামী তিন বছর প্রতিবছর ৩ লাখ ৮০ হাজার করে নতুন স্থায়ী বাসিন্দা (পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট বা পিআর) গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে।
অর্থনৈতিক অভিবাসনেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব
নতুন পরিকল্পনায় কানাডার অর্থনৈতিক চাহিদাকে অভিবাসন ব্যবস্থাপনার প্রধান বিবেচনা হিসেবে রাখা হয়েছে। দক্ষ কর্মী, প্রাদেশিক মনোনয়ন কর্মসূচি (পিএনপি) এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক অভিবাসন কর্মসূচির মাধ্যমে অধিকাংশ নতুন স্থায়ী বাসিন্দা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এর অর্থ, কানাডার শ্রমবাজারে অবদান রাখার সক্ষমতা রয়েছে এমন আবেদনকারীরা অর্থনৈতিক অভিবাসন ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকবেন। শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত দক্ষতা, কাজের অভিজ্ঞতা এবং ইংরেজি বা ফরাসি ভাষায় পারদর্শিতা আবেদনকারীদের যোগ্যতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তবে শুধু উচ্চশিক্ষা বা দীর্ঘ কর্ম-অভিজ্ঞতা থাকলেই পিআর নিশ্চিত হবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নতুন পরিকল্পনায় দেওয়া হয়নি। কোন কর্মসূচিতে কী ধরনের যোগ্যতা প্রয়োজন, তা সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির নিয়মের ওপর নির্ভর করবে।
ফরাসিভাষীদের জন্য বাড়ছে সুযোগের লক্ষ্য
নতুন অভিবাসন পরিকল্পনায় কুইবেকের বাইরে ফরাসিভাষী স্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা বাড়ানোর বিশেষ লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে কানাডা সরকার।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, কুইবেকের বাইরে ফরাসিভাষী নতুন স্থায়ী বাসিন্দার হার ২০২৭ সালে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ, ২০২৮ সালে ১০ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ২০২৯ সালে ১২ শতাংশে উন্নীত করতে চায় সরকার।
এ লক্ষ্য পূরণে ফরাসি ভাষায় দক্ষ অভিবাসীদের গুরুত্ব বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে ইংরেজির পাশাপাশি ফরাসি ভাষায় দক্ষতা অর্জনও কানাডায় স্থায়ী বসবাসে আগ্রহীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা হয়ে উঠতে পারে।
পরিবার পুনর্মিলন ও মানবিক অভিবাসনও থাকছে
অর্থনৈতিক অভিবাসনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও কানাডার নতুন পরিকল্পনায় অন্যান্য অভিবাসন পথ বন্ধ করা হচ্ছে না। পরিবার পুনর্মিলন, শরণার্থী গ্রহণ এবং মানবিক বিবেচনায় স্থায়ী বসবাসের সুযোগও অব্যাহত থাকবে।
অর্থাৎ দক্ষ কর্মীদের পাশাপাশি কানাডায় বসবাসরত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পুনর্মিলন এবং নির্দিষ্ট মানবিক ও শরণার্থী কর্মসূচির আওতায়ও স্থায়ী বাসিন্দা গ্রহণ করবে দেশটি।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও অস্থায়ী বিদেশি কর্মীদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে অভিবাসন প্রবাহকে দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও শ্রমবাজারের প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার চেষ্টা করছে সরকার।
১১ লাখ ৪০ হাজার পিআর কি নিশ্চিত?
নতুন পরিকল্পনায় তিন বছরে ১১ লাখ ৪০ হাজার স্থায়ী বাসিন্দা গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও এটি কোনো আবেদনকারীর পিআর পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়। এটি সরকারের নির্ধারিত সামগ্রিক অভিবাসন লক্ষ্য। ব্যক্তিগতভাবে কে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাবেন, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির যোগ্যতা, আবেদন যাচাই এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর।
তাই কানাডায় স্থায়ীভাবে বসবাসে আগ্রহীদের আগে নিজেদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা, ভাষাগত দক্ষতা ও আর্থিক প্রস্তুতি মূল্যায়ন করা জরুরি। একই সঙ্গে কোন অভিবাসন কর্মসূচি নিজের প্রোফাইলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, সেটিও যাচাই করতে হবে।
নতুন পরিকল্পনায় অর্থনৈতিক অভিবাসনকে গুরুত্ব দেওয়া হলেও কোন পেশায় কতজন নেওয়া হবে কিংবা কোন নির্দিষ্ট দক্ষতাকে কতটা অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, তা শুধু সামগ্রিক লক্ষ্যমাত্রা থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির বিস্তারিত নির্দেশনা ও যোগ্যতার শর্ত প্রকাশের পরই আবেদনকারীদের জন্য সুযোগের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।








