মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

‘জুলাই সনদ মানেই এলজিবিটিকিউ বাস্তবায়ন’—তাই ‘না’ ভোট দেবেন আসিফ মাহতাব উৎস

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় গণভোটে ‘না’ ভোট দেবেন বলে জানিয়েছেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট আসিফ মাহতাব উৎস। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারিরাত সোয়া ৮টার দিকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় এর কারণ স্পষ্ট করেছেন তিনি। আসিফ মাহতাব বলেনআপনারা অনেকেই মেসেজ দিয়ে আমার কাছে জানতে চেয়েছেন যে জুলাই সনদে আমি ‘হাঁ’ ভোট দেব নাকি ‘না’ ভোট দেববিভিন্ন ব্যস্ততার কারণে আমি অনলাইনে সক্রিয় থাকতে পারি না। আপনারা যেহেতু প্রচুর সংখ্যক মানুষ মেসেজ দিয়েছেনতাই আমি ভিডিও বার্তায় তার উত্তর দিচ্ছি। আমার উত্তর হচ্ছেজুলাই সনদে আমি ‘না’ ভোট দেব।

কেন ‘না’ ভোট দেবেনকারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেনবিষয়টি আমি সংক্ষেপে বলার চেষ্টা করছি। জুলাই সনদের ৮৪ নম্বর ধারায় বলা আছেজুলাই সনদ যদি বাস্তবায়ন হয়তাহলে বাংলাদেশ ‘ওপেন গভর্মেন্ট পার্টনারশিপে’ যোগ দেবে। ওপেন গভর্মেন্ট পার্টনারশিপ জিনিসটা কীজুলাইয়ে আমরা যে আন্দোলন করেছি তার সঙ্গে এর সম্পর্কটা কীআমরা কি ওপেন গভর্মেন্ট পার্টনারশিপে যোগ দেওয়ার জন্য আন্দোলন করেছি?

ওপেন গভর্মেন্ট পার্টনারশিপের’ কার্যক্রম প্রসঙ্গে আসিফ মাহতাব উৎস বলেনওপেন গভর্মেন্ট পার্টনারশিপ হচ্ছে ‘এলজিবিটিকিউ রাইটস’-এর পক্ষে কাজ করা। অর্থাৎ এর মাধ্যমে এলজিবিটিকিউ রাইটস বাস্তবায়ন করা হবে। সুতরাং জুলাই সনদ পাস হলে তারা বলবেএটা তো পাস হয়ে গেছেআপনাকে এখন এলজিবিটিকিউ বাস্তবায়ন করতে হবে। আসিফ মাহতাব বলেনআমি তো ওপেন সোসাইটির জন্য সংগ্রাম করিনিআপনিও করেননি। কিন্তু আপনাকে ভোট দেওয়ানো হবে এবং ভোট দেওয়ানোর পরে এগুলো (এলজিবিটিকিউবাস্তবায়নও করা হবে। এরপর তিনি জুলাই সনদ থেকে এলজিবিটিকিউ সংশ্লিষ্ট আরও দুটি প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। সেখানে ‘ইনক্লুসিভ’ এবং ‘সোশ্যাল জাস্টিস’ শব্দমালা তুলে ধরে ব্যাখ্যা করেনকীভাবে এসব শব্দের মারপ্যাচে এলজিবিটিকিউকে আইন পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত করার পাঁয়তারা চালানো হচ্ছে।

ভিডিও বার্তায় এই অ্যাক্টিভিস্ট দাবি করেনজুলাই সনদের সাথে ইসলামের কোনো সম্পর্কই নেই। তিনি এর স্বপক্ষে প্রমাণ হিসেবে রাজনৈতিক অ্যাক্টিভিস্ট ডাজাহেদ উর রহমানের একটি টকশো আলোচনার খণ্ডিত অংশ তুলে ধরেন। তিনি আরও বলেনসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বুঝানোর চেষ্টা করছে যেজুলাই সনদে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া হলে আওয়ামী লীগের ফেরার পথ রুদ্ধ করা যাবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগের ফেরার পথ বন্ধ হবে না। এমনকি আওয়ামী লীগ যদি ফিরে আসেতাহলে তারা এটি খুব সহজে বাতিলও করে দিতে পারবে। এ ছাড়া জুলাই সনদের মাধ্যমে উন্নয়নের যে স্বপ্ন দেখানো হচ্ছেসেটিও অবাস্তব বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *