রাজনৈতিক বক্তব্যের বাইরে গিয়ে শ্রমজীবী মানুষের বাস্তব সমস্যাকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানালেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, সংসদ কোনো আনুষ্ঠানিক বা কথার জায়গা নয়; বরং এটি হওয়া উচিত জনগণের দুর্দশা তুলে ধরার কেন্দ্রবিন্দু।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ ফটকে আয়োজিত এক শ্রমিক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। মহান মে দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন এই সমাবেশের আয়োজন করে।
সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, সংসদে যাওয়ার উদ্দেশ্য শুধুমাত্র আলোচনার জন্য নয়, কিংবা ইতিহাস নিয়ে বক্তৃতা দেওয়ার জন্যও নয়। বরং দেশের অবহেলিত ও দুঃখী মানুষের পক্ষে কথা বলাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
মে দিবসের প্রেক্ষাপটে তিনি শিকাগোর ঐতিহাসিক শ্রমিক আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন এবং বলেন, সেই ঘটনার প্রায় ১৪০ বছর পার হলেও শ্রমিকদের জীবনমানে কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হয়নি। প্রতিবছর শ্রম দিবসে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল শ্রমিকদের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও, বাস্তবে তার খুব সামান্যই বাস্তবায়িত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বছরের বাকি সময় শ্রমিকদের দাবি উপেক্ষিত থাকলেও পয়লা মে এলেই অনেকেই হঠাৎ করে শ্রমিকবান্ধব হয়ে ওঠেন। অথচ শ্রমিকদের মর্যাদা ও প্রয়োজনকে গুরুত্ব না দিলে কোনো সমাজই দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না।
বিরোধীদলীয় অবস্থান থেকে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে সংসদের ভেতরে ও বাইরে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি। ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত এই সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে বলেও জানান।
এ সময় বামপন্থী রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর তীব্র সমালোচনা করেন জামায়াত আমির। তার অভিযোগ, এসব সংগঠনের নেতারা শ্রমিক আন্দোলনে সামনে থাকলেও শেষ পর্যন্ত নিজেদের স্বার্থ হাসিলেই ব্যস্ত হয়ে পড়েন। আন্দোলনের সময় শ্রমিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও নেতাদের অবস্থার পরিবর্তন ঘটে, কিন্তু সাধারণ শ্রমিকদের জীবনে তেমন কোনো উন্নতি আসে না।
শ্রেণি-সংগ্রামের ধারণা নিয়েও আপত্তি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শ্রেণিশত্রু ধ্বংসের’ রাজনীতিতে তারা বিশ্বাস করেন না। বরং মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান ও সহমর্মিতার ভিত্তিতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রসঙ্গ টেনে শফিকুর রহমান তাদের ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বিদেশে কঠোর পরিশ্রম করে উপার্জিত অর্থ দেশে পাঠিয়েও প্রবাসীরা যথাযথ সম্মান পান না। পাসপোর্ট নবায়নসহ বিভিন্ন সেবায় দালালচক্রের কারণে তারা ভোগান্তির শিকার হন।
তিনি অভিযোগ করেন, বিদেশে বাংলাদেশি মিশন ও দূতাবাসগুলো অনেক ক্ষেত্রে প্রবাসীদের সমস্যার কার্যকর সমাধান দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। তার মতে, এসব প্রতিষ্ঠানের মূল কাজ হওয়া উচিত দেশের নাগরিকদের সেবা নিশ্চিত করা, শুধু প্রশাসনিক কাঠামো বজায় রাখা নয়।
শেষে প্রবাসী ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষায় সরকারের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।








