রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

সবশেষ

মৃত্যুর আগমুহূর্তে যে কথা লিখেছিলেন ইরানের সাবেক সেনাপ্রধান

ইরানের সাবেক সামরিক প্রধান আবদুল রহিম মুসাভির মৃত্যুর আগমুহূর্তে হাতে লেখা একটি বার্তা প্রকাশ করেছে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি। ধারণা করা হচ্ছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার ঠিক আগে তিনি এই বার্তাটি লিখেছিলেন।

প্রকাশিত সেই সংক্ষিপ্ত বার্তায় পার্থিব জীবন, অর্জন এবং ক্ষতি নিয়ে নিজের দার্শনিক ভাবনা তুলে ধরেন মুসাভি। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, পৃথিবীর জীবন আসলে এমন এক বাস্তবতা যেখানে সবকিছু অর্জন করেও মানুষের শেষ পর্যন্ত কিছুই হাতে থাকে না। আবার সব হারিয়েও প্রকৃতপক্ষে কিছু হারায় না মানুষ।

তাসনিমের প্রকাশিত বক্তব্য অনুযায়ী, মুসাভি লিখেছিলেন, “দুনিয়া একটি খারাপ জিনিস। কারণ তুমি যদি পুরো দুনিয়াও অর্জন করো, তবুও আসলে কিছুই অর্জন করলে না। কিন্তু দুনিয়ার ভালো দিকও এটাই, তুমি যদি সবকিছু হারিয়েও ফেলো, তবুও আসলে কিছুই হারাওনি।”

ওই হামলাকে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে ভয়াবহ আঘাতগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, হামলার দিন ভোরে তেহরানে নিজ কার্যালয়ে ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকে ছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। পরে ইসরাইলি কর্মকর্তারা দাবি করেন, বিমান হামলায় খামেনিসহ তার কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী নিহত হয়েছেন।

নিহতদের তালিকায় সাবেক ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলি শামখানি এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুরের নামও উল্লেখ করা হয়।

হামলার পর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা খামেনির বাসভবনের স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করে। সেই ছবিতে ভবনটিকে সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে দেখা যায়। চারপাশে বিস্ফোরণের চিহ্ন স্পষ্ট ছিল, যা থেকে বড় ধরনের হামলার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

তবে এখন পর্যন্ত হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র, আক্রমণের কৌশল কিংবা নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। একই সঙ্গে ইরানের পক্ষ থেকেও পুরো ঘটনার ব্যাপারে সীমিত তথ্যই সামনে আনা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *