সপ্তাহের ব্যবধানে বেইজিংয়ে পা রেখেছেন বিশ্বের প্রভাবশালী নেতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তবে একই আতিথেয়তার মঞ্চে দাঁড়িয়েও দুই নেতার সফরের ধরন, কূটনৈতিক বার্তা এবং চীনের আচরণে স্পষ্ট হয়েছে ভিন্ন সমীকরণ। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সফর যেখানে অর্থনীতি ও বাণিজ্যকেন্দ্রিক ছিল, সেখানে পুতিনের সফর ছিল কৌশলগত ও রাজনৈতিক সম্পর্কের গভীরতার প্রতিফলন।
ট্রাম্পের সফরের মাত্র চারদিন পর বেইজিং পৌঁছান পুতিন। আর দুই নেতাকে স্বাগত জানানোর প্রটোকল নিয়েই শুরু হয় আলোচনা। ট্রাম্পকে বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানান চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেং। অন্যদিকে পুতিনকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। যদিও কূটনৈতিক মহল এটিকে আনুষ্ঠানিকতার পার্থক্য হিসেবে দেখছে, তবু শি জিনপিংয়ের বক্তব্যে দুই নেতার সঙ্গে সম্পর্কের প্রকৃতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
চীনা প্রেসিডেন্টের দৃষ্টিতে ট্রাম্প ছিলেন মূলত অর্থনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী, আর পুতিন দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র। সেই পার্থক্য ফুটে ওঠে সফরের পরিবেশ ও সঙ্গীদের মধ্যেও। ট্রাম্পের সফরসঙ্গী ছিলেন প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ নির্বাহীরা, যাদের মধ্যে অ্যাপল ও টেসলার প্রতিনিধিরাও ছিলেন। বিপরীতে পুতিনের প্রতিনিধিদলে ছিলেন পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় থাকা রাশিয়ার জ্বালানি ও ব্যাংকিং খাতের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা।
আতিথেয়তার ধরনেও ছিল স্পষ্ট ভিন্নতা। ট্রাম্প অবস্থান করেন বিলাসবহুল ফোর সিজনস হোটেলে এবং ব্যস্ত ছিলেন বাণিজ্য চুক্তি, বিশেষ করে কৃষিপণ্য ও সয়াবিন আমদানি নিয়ে আলোচনায়। অন্যদিকে পুতিনকে রাখা হয় দিয়াওইউতাই স্টেট গেস্টহাউসে, যেখানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল ডলারনির্ভরতা কমানো, জ্বালানি সহযোগিতা এবং ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া-২’ গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্পের মতো দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত ইস্যু।
তবে সফর ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে শি জিনপিংয়ের একটি মন্তব্য। ঝংনানহাই প্রাঙ্গণ ঘুরিয়ে দেখানোর সময় শি ট্রাম্পকে জানান, ব্যক্তিগত চা বৈঠকের আমন্ত্রণ পাওয়া খুব অল্প কয়েকজন নেতার মধ্যে পুতিন অন্যতম। মার্কিন গণমাধ্যমের দাবি, এ মন্তব্যে ট্রাম্প কিছুটা অস্বস্তিতে পড়েন এবং সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় শুধু “গুড” বলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, পুরো ঘটনাপ্রবাহে চীন একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের অর্থনৈতিক সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ হলেও, রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ককে তারা দেখছে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারত্ব হিসেবে। তাই ট্রাম্পের সফর ছিল অনেকটা প্রদর্শনমূলক অর্থনৈতিক কূটনীতি, আর পুতিনের সফর প্রতিফলন ঘটিয়েছে বেইজিং-মস্কো অক্ষের রাজনৈতিক ও সামরিক ঘনিষ্ঠতার।








