রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় কয়েক দিন ধরে ভ্যাপসা গরমে জনজীবন অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে। দিনের তাপমাত্রা খুব বেশি না বাড়লেও বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে গরমের অনুভূতি আরও তীব্র হচ্ছে। শুক্রবার সকালে ঢাকার আকাশে কিছুটা মেঘ দেখা গেলেও তা থেকে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টির সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়া অফিসের সকাল সাতটা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় আকাশ আংশিক কিংবা সাময়িকভাবে মেঘলা থাকতে পারে। একই সঙ্গে কোথাও কোথাও হালকা বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে আবহাওয়াবিদদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে বড় ধরনের বৃষ্টির সম্ভাবনা খুব একটা নেই। শুক্রবার সকাল নয়টার দিকে আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক জানান, বর্তমানে ঢাকার আকাশে যে মেঘ দেখা যাচ্ছে, সেগুলো মূলত নিম্নস্তরের মেঘ। এ ধরনের মেঘ সাধারণত বৃষ্টি সৃষ্টি করতে পারে না। বরং এসব মেঘের কারণে বাতাস ভারী হয়ে ভ্যাপসা গরম আরও বাড়তে পারে।
রাজধানীতে চলতি মৌসুমের প্রথম তাপপ্রবাহ শুরু হয় গত বুধবার। সেদিন ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পরদিন বৃহস্পতিবার তাপমাত্রা কিছুটা কমে ৩৪ ডিগ্রিতে নেমে এলেও মানুষের অস্বস্তি কমেনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এর প্রধান কারণ বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রা বেড়ে যাওয়া। আর্দ্রতা বেশি থাকলে শরীরের ঘাম সহজে শুকাতে পারে না, ফলে তাপমাত্রা তুলনামূলক কম হলেও গরমের অনুভূতি অনেক বেশি হয়।
এদিকে শুধু ঢাকাই নয়, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি জেলাতেও তাপপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার খুলনা বিভাগের চার জেলা, খুলনা, বাগেরহাট, যশোর ও সাতক্ষীরার ওপর দিয়ে তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, শুক্রবারও এসব এলাকায় একই পরিস্থিতি থাকতে পারে।
দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও বৃহস্পতিবার রেকর্ড করা হয়েছে খুলনার কয়রায়। সেখানে তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা না বাড়া পর্যন্ত ভ্যাপসা গরম থেকে দ্রুত স্বস্তি পাওয়ার সম্ভাবনা কম। তাই প্রয়োজন ছাড়া রোদে না বের হওয়া, বেশি পানি পান করা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।








