দুই দশকেরও বেশি সময় পর কক্সবাজার সফরে গিয়ে প্রথম কর্মসূচি হিসেবে একটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের ঐতিহাসিক পাতলী খালকে ঘিরে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে উন্নয়ন, কৃষি ও ঐতিহ্যের বিষয়টি একসঙ্গে উঠে আসে।
শনিবার সকালে ঢাকা থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে কক্সবাজার পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সফরের সূচনাতেই তিনি পাতলী খালের পুনঃখনন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। খালটি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন উদ্যোগের স্মারক হিসেবে পরিচিত।
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই পিএমখালী এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা যায়। কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে পাতলী খাল পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে বৃষ্টি উপেক্ষা করে অবস্থান নেন হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থক। ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে তারা প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।
ঐতিহাসিকভাবে পাতলী খালের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ১৯৭৭ সালে গ্রামীণ অর্থনীতি, কৃষি উৎপাদন ও সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। সেই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ১৯৭৯ সালের নভেম্বরে তিনি নিজেই পিএমখালীর এই খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছিলেন। ফলে দীর্ঘদিন পর একই স্থানে তাঁর পুত্রের উপস্থিতি কর্মসূচিটিকে নতুন তাৎপর্য এনে দিয়েছে।
স্থানীয় এই প্রকল্পের পাশাপাশি দেশজুড়ে বৃহৎ পরিসরে খাল পুনঃখননের পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করছে সরকার। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের একটি জাতীয় কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এর প্রথম ধাপে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ১ হাজার ২০৪ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, খাল পুনঃখননের পাশাপাশি জলাধার ও প্রাকৃতিক প্রবাহ রক্ষা, খালের তীর সংরক্ষণ, ব্যাপক বৃক্ষরোপণ এবং অবৈধ দখলমুক্ত করার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
দিনব্যাপী বিভিন্ন উন্নয়ন, পরিবেশ ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর রাতে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে কক্সবাজার ত্যাগ করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।







