রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

সবশেষ

লাখো মানুষের অশ্রুসিক্ত ভালোবাসায় খামেনির জানাজা, ছিলেন তিন ছেলে, প্রেসিডেন্ট ও স্পিকার

ইরানের মরহুম সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে শেষ বিদায় জানাতে রাজধানী তেহরানে মানুষের ঢল নেমেছে। রোববার সকালে (স্থানীয় সময় সকাল ৮টা, বাংলাদেশ সময় সাড়ে ১০টা) অনুষ্ঠিত তার জানাজায় লাখো শোকাহত মানুষ অংশ নেন। রাষ্ট্রের শীর্ষ নেতৃত্ব, সামরিক কর্মকর্তাসহ খামেনির পরিবারের সদস্যরাও এ জানাজায় উপস্থিত ছিলেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, জানাজার নামাজে ইমামতি করেন দেশটির জ্যেষ্ঠ ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি। খামেনির পাশাপাশি তার পরিবারের আরও চার সদস্যের জানাজাও একইসঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়।

রাষ্ট্রীয় এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং বিচার বিভাগের প্রধান গোলামহোসেইন মোহসেনি ইজেই। খামেনির তিন ছেলে, মাসুদ, মাইসাম ও মোস্তফাও জানাজায় অংশ নেন। তবে অসুস্থতা ও নিরাপত্তাজনিত কারণে বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি।

জানাজায় আরও উপস্থিত ছিলেন ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের কমান্ডার ইসমাইল কানি।

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সাত দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক ও দাফন কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে তেহরানে এ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সকাল থেকেই গ্র্যান্ড মোসাল্লা এলাকায় মানুষের ব্যাপক সমাগম ঘটে। শোকাহত মানুষের অনেককেই অশ্রুসিক্ত চোখে প্রিয় নেতাকে শেষ বিদায় জানাতে দেখা যায়।

জানাজাকে কেন্দ্র করে রোববার সারা ইরানে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সন্ধ্যায় খামেনির মরদেহ তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা থেকে অন্যত্র স্থানান্তর করা হবে। আগামী সোমবার রাজধানীজুড়ে শোকমিছিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, মঙ্গলবার খামেনির কফিন নিয়ে যাওয়া হবে কোম নগরীতে। এরপর বুধবার মরদেহ নেওয়া হবে প্রতিবেশী ইরাকের নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। সেখান থেকে নাজাফ ও কারবালা শহরে শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে এবং সেখানেও তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে জানাজার আয়োজন করা হবে।

সবশেষে খামেনির মরদেহ তার জন্মস্থান ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মাশহাদে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। সেখানেই তাঁকে দাফন করার কথা রয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধের প্রথম দিনে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ৮৬ বছর বয়সে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি পরিবারের কয়েকজন সদস্যসহ নিহত হন। ওই হামলায় গুরুতর আহত হন তার ছেলে মোজতবা খামেনি। ১৯৮৯ সাল থেকে তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

খামেনির মৃত্যুর পর তার ছেলে মোজতবা আলী খামেনিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণা করা হয়েছে। তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এখন পর্যন্ত তিনি জনসমক্ষে উপস্থিত হননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *