সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

সবশেষ

গুলশানের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ‘বিশেষ শ্রেণির’ কেপিআই, জোরদার হচ্ছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারি বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত রাজধানীর গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাড়িকে ‘বিশেষ শ্রেণির’ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা (কী পয়েন্ট ইনস্টলেশন-কেপিআই) ঘোষণা করেছে সরকার। এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার ফলে বাসভবনটি এবং এর আশপাশের এলাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ৭ জুন কেপিআই–সংক্রান্ত কমিটির (কেপিআইডিসি) মাসিক সভায় গুলশানের এই বাসভবনকে বিশেষ শ্রেণির কেপিআই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়। পরে সরকারি অনুমোদনের ভিত্তিতে ১৫ জুন এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। বিষয়টি নিয়ে গত শুক্রবার (৩ জুলাই) সরকারি গেজেট প্রকাশিত হয়েছে।

বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গুলশানের এই বাসভবন থেকেই রাষ্ট্রীয় ও সরকারি দায়িত্ব পালন করছেন। যদিও রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা সরকারি ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রয়েছে, তিনি সেখানে স্থায়ীভাবে অবস্থান করছেন না।

বাসভবনটির মালিকানা প্রসঙ্গে জানা গেছে, গত বছরের ৫ জুন অন্তর্বর্তী সরকার সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার হাতে বাড়িটির নামজারির কাগজ হস্তান্তর করে। ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর গুলশানের প্রায় দেড় বিঘা জমির ওপর নির্মিত এ বাড়িটি খালেদা জিয়ার নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। নামজারি সম্পন্ন হওয়ার পর বাড়িটি সংস্কার ও আধুনিকায়নের কাজও করা হয়।

গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার পর তারেক রহমান এই বাসভবনে বসবাস শুরু করেন। পরে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরও তিনি একই বাসভবন থেকেই রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।

নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) সমন্বয়ে পৃথক নিরাপত্তা কমিটি গঠন করা হবে। বাসভবনের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন প্রেসিডেন্ট গার্ডস রেজিমেন্টের (পিজিআর) সদস্যরা। তাদের সঙ্গে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরাও দায়িত্বে থাকবেন।

নিরাপত্তা নির্দেশনায় কেপিআই ঘোষিত স্থাপনার সীমানা প্রাচীরের ন্যূনতম উচ্চতা ১২ ফুট নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ওপর আরও তিন ফুট উঁচু ‘ওয়াই’ আকৃতির কাঁটাতারের বেড়া স্থাপন করতে হবে।

এ ছাড়া আশপাশের উঁচু ভবন থেকে নজরদারি, ছবি তোলা কিংবা সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। কেপিআই স্থাপনার ১৫০ থেকে ৩০০ মিটারের মধ্যে নতুন কোনো বহুতল ভবন নির্মাণের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র নিতে হবে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, কেপিআই ঘোষিত স্থাপনার ২৫ মিটারের মধ্যে নতুন কোনো ভবন বা স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। একই সঙ্গে ভবনের চারপাশের পাঁচ ফুট এলাকার মধ্যে থাকা বিদ্যুৎ ও টেলিফোনের খুঁটি এবং নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ গাছপালা অপসারণের ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ নথি, সংবেদনশীল তথ্য এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই গুলশানের এই বাসভবনকে বিশেষ শ্রেণির কেপিআই হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *