মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬

সবশেষ

নতুন শুল্ক নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন আইনি চাপে, ২৫ অঙ্গরাজ্যের যৌথ মামলা

বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন আমদানি শুল্ক কার্যকরের পরই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেশটির ২৫টি অঙ্গরাজ্য যৌথভাবে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে।

স্থানীয় সময় সোমবার (৩ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের কোর্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডে দায়ের করা মামলায় বলা হয়েছে, জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি রোধে ব্যর্থতার অভিযোগে বিভিন্ন দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার সাংবিধানিক ও আইনি ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন।

মামলাটি মূলত গত মাসে বাংলাদেশসহ ৬০টি বাণিজ্য অংশীদার দেশের ওপর আরোপিত নতুন শুল্ককে কেন্দ্র করে করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এর আগে, গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের বহুল আলোচিত ‘লিবারেশন ডে’ শুল্ক বাতিল করে দেয়। সেই সিদ্ধান্তের পর প্রশাসন অস্থায়ী শুল্ক ব্যবস্থা চালু করেছিল। ওই ব্যবস্থার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন শুল্ক কার্যকর করা হয়।

মামলায় অংশ নেওয়া অঙ্গরাজ্যগুলোর অন্যতম নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস বলেন, সুপ্রিম কোর্টে পরাজয়ের পরও প্রশাসন নতুন করে অবৈধ শুল্ক আরোপের মাধ্যমে পরিবার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে।

মামলাকারী ২৫টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে নিউইয়র্ক ও ওরেগনও রয়েছে। এসব অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল বা গভর্নর ডেমোক্র্যাট দলের প্রতিনিধিত্ব করছেন।

তবে হোয়াইট হাউস নতুন শুল্ককে বৈধ ও প্রয়োজনীয় বলে দাবি করেছে। প্রশাসনের মুখপাত্র কুশ দেশাই বলেন, কোনো দেশ যদি জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করতে কিংবা সেই নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়, তাহলে তা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ও দেশটির শ্রমিকদের জন্য ক্ষতিকর হয়ে ওঠে। তাই এ ধরনের পরিস্থিতিতে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

গত ২৪ জুলাই থেকে বাংলাদেশসহ ৬০টি বাণিজ্য অংশীদারের পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক কার্যকর হয়। এই ব্যবস্থার আওতায় বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ এবং ১২ দশমিক ৫ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

এর আগে, ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট জাতীয় জরুরি অবস্থার আইনের আওতায় ট্রাম্পের আরোপ করা ১০ থেকে ৫০ শতাংশ ‘পারস্পরিক’ শুল্ক বাতিল করে দেয়। সেই রায়ের পর প্রায় সব ধরনের আমদানির ওপর ন্যূনতম শুল্ক বজায় রাখার বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে এবার ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারা ব্যবহার করছে হোয়াইট হাউস।

ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নতুন শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া প্রায় ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশ পণ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। তবে তেল ও গ্যাস, সার, নির্দিষ্ট কিছু খাদ্যপণ্য এবং কয়েকটি কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ খাতকে এই শুল্কের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *