দেশে প্রবাসী আয় প্রবাহ অব্যাহত থাকলেও সব ব্যাংক সেই অর্থপ্রবাহের অংশীদার হতে পারেনি। সদ্য শেষ হওয়া জুলাই মাসে মোট ২৮৫ কোটি ৮৬ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স দেশে এলেও আটটি ব্যাংকের মাধ্যমে এক ডলারও আসেনি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের রোববার (২ আগস্ট) প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, যেসব ব্যাংকে জুলাই মাসে কোনো রেমিট্যান্স জমা পড়েনি, তার মধ্যে রয়েছে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক, একটি বিশেষায়িত ব্যাংক, দুটি বেসরকারি ব্যাংক এবং চারটি বিদেশি ব্যাংক।
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল) এবং বিশেষায়িত খাতের রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) জুলাই মাসে কোনো প্রবাসী আয় পায়নি। একইভাবে বেসরকারি খাতের পদ্মা ব্যাংক পিএলসি ও আইসিবি ইসলামী ব্যাংকেও রেমিট্যান্স আসেনি।
বিদেশি ব্যাংকগুলোর মধ্যে আল ফালাহ ব্যাংক, হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান এবং স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়াও জুলাই মাসে রেমিট্যান্সশূন্য ছিল।
অন্যদিকে, ব্যাংকভিত্তিক রেমিট্যান্স প্রবাহের হিসাবে দেখা যায়, জুলাইয়ে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৪৩ কোটি ৭৯ লাখ ৭০ হাজার ডলার। বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৩২ কোটি ৫৫ লাখ ১০ হাজার ডলার। সবচেয়ে বেশি প্রবাসী আয় এসেছে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে, যার পরিমাণ ২০৮ কোটি ৯৮ লাখ ৭০ হাজার ডলার। বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৫৩ লাখ ২০ হাজার ডলার।
রেমিট্যান্স প্রবাহের ধারাবাহিক হিসাব অনুযায়ী, জুন মাসে দেশে আসে ২৮১ কোটি ৭০ লাখ ডলার। মে মাসে প্রবাসীরা পাঠান ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ৩০ হাজার ডলার, যা দেশের ইতিহাসে একক মাস হিসেবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স। এর আগে মার্চ মাসে সর্বোচ্চ ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স আসে। এছাড়া এপ্রিলে আসে ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ ডলার।
চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দেশে আসে যথাক্রমে ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার এবং ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে রেমিট্যান্স ছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার, নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার। অক্টোবর ও সেপ্টেম্বরে আসে যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার এবং ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার। এছাড়া আগস্টে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার এবং জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসীরা মোট ৩ হাজার ৫৫৬ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার, অর্থাৎ ৩৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। এটি দেশের ইতিহাসে কোনো একক অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স অর্জনের নতুন রেকর্ড।








