সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের শুরুর দিকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় দারা প্রদেশ। ২০১১ সালে সেখানকার আন্দোলন দমনে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের দায়ে এবার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে দামেস্কের একটি ফৌজদারি আদালত। একই মামলায় দারা প্রদেশের তৎকালীন রাজনৈতিক নিরাপত্তাবিষয়ক প্রধান আতেফ নাজিবকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার দেওয়া রায়ে আদালত বাশার আল-আসাদকে ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের’ জন্য দোষী সাব্যস্ত করেন। অন্যদিকে আতেফ নাজিবকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
আদালতের ভাষ্য, ২০১১ সালে দারা প্রদেশে বাশার আল-আসাদ সরকারের সময় সংঘটিত অপরাধগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। ওই সময়ের দমন-পীড়নই পরবর্তী সময়ে সিরিয়ার দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধের অন্যতম সূত্রপাত ঘটায়।
তবে আদালতের এই রায়ের সময় বাশার আল-আসাদ সিরিয়ায় নেই। দেশটির ইসলামপন্থী নেতা আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহীরা তার সরকারকে উৎখাত করার পর তিনি সিরিয়া ছেড়ে রাশিয়ায় পালিয়ে যান। বর্তমানে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন।
বাশার আল-আসাদের শাসনের বিরুদ্ধে ২০১১ সালে দারা থেকেই বড় ধরনের বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। সেই আন্দোলন দমনে সরকারের কঠোর অবস্থান ও নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের পর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এবং তা রূপ নেয় দীর্ঘ গৃহযুদ্ধে।
আদালতের সাম্প্রতিক রায় সেই সময়কার ঘটনাগুলোকেই বিচারের আওতায় এনেছে। বিশেষ করে দারা প্রদেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের জন্য তৎকালীন সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিদের দায় নির্ধারণের বিষয়টি রায়ে গুরুত্ব পেয়েছে।
বাশার আল-আসাদ দীর্ঘ সময় সিরিয়া শাসন করেছেন। কিন্তু বিদ্রোহীদের অগ্রযাত্রার মুখে শেষ পর্যন্ত তার সরকারের পতন ঘটে এবং তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। তার ক্ষমতাচ্যুতির পর সিরিয়ায় সাবেক সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গৃহযুদ্ধকালীন অপরাধের অভিযোগে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
দামেস্কের ফৌজদারি আদালতের এই রায় তাই শুধু দুই সাবেক কর্মকর্তার সাজা নয়; বরং ২০১১ সালে দারা থেকে শুরু হওয়া রক্তাক্ত সংঘাতের দায় নির্ধারণের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে সামনে এসেছে।








