মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

সবশেষ

প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষায় ‘প্রবাসী ট্রাইব্যুনাল’ গঠনের প্রস্তাব, ৯০ দিনে মামলার নিষ্পত্তি!

প্রবাসীদের বাড়িঘর, জমি, ব্যবসা ও অর্থ-সম্পদ নিয়ে বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ‘প্রবাসী ট্রাইব্যুনাল’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি)। সংগঠনটির প্রস্তাবে অভিযোগ গ্রহণ থেকে রায় পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে শেষ করার কথা বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের কাছে এ বিষয়ে একটি স্মারকলিপি দেয় এইচআরপিবি। সংগঠনের প্রেসিডেন্ট ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদের নেতৃত্বে আট সদস্যের প্রতিনিধি দল আইনমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপিটি হস্তান্তর করে।

সংগঠনটি বলছে, প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও দেশে ফিরে কিংবা বাংলাদেশে থাকা অবস্থায় তাদের সম্পত্তি ও অর্থ নিয়ে নানা ধরনের হয়রানি ও আইনি জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রভাবশালীদের মাধ্যমে জমি, বাড়ি বা অন্যান্য সম্পত্তি দখলের অভিযোগও রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মামলা চলার কারণে অনেকে যথাযথ আইনি প্রতিকার থেকে বঞ্চিত হন।

এইচআরপিবির মতে, এমন পরিস্থিতি প্রবাসীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহ কমিয়ে দিচ্ছে। কেউ কেউ নিজেদের সম্পত্তি বিক্রি করে দেওয়ার পথও বেছে নিচ্ছেন। এতে দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।

৯০ দিনের মধ্যে রায়ের প্রস্তাব
প্রবাসীদের দ্রুত আইনি প্রতিকার নিশ্চিত করতে জেলা জজ বা সমমর্যাদার একজন বিচারককে ‘প্রবাসী ট্রাইব্যুনালের’ বিচারক করার প্রস্তাব দিয়েছে এইচআরপিবি।

প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো প্রবাসী দেশে অবস্থান না করেও সরাসরি কিংবা ডিজিটাল মাধ্যমে অভিযোগ দায়ের করতে পারবেন। বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় অভিযোগ করার সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে। অভিযোগের সঙ্গে ১০০ টাকা বা সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার কোর্ট ফি সংযুক্ত করার প্রস্তাবও রয়েছে।

অভিযোগ পাওয়ার পর ৩০ দিনের মধ্যে শুনানির তারিখ নির্ধারণ করতে হবে। এরপর সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে শুনানি শেষ করে রায় দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রয়োজনে বিচারক সরাসরি আদালতে অথবা ভার্চুয়াল মাধ্যমে শুনানি নিতে পারবেন।

হাইকোর্টে আপিলের সুযোগ
ট্রাইব্যুনালের রায়ে কোনো পক্ষ অসন্তুষ্ট হলে ৩০ দিনের মধ্যে হাইকোর্টে আপিল করতে পারবেন বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে কোনো প্রবাসীর সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল থেকে উদ্ধারের বিষয়ে ট্রাইব্যুনাল নির্দেশ দিলে, সেই নির্দেশ বাস্তবায়নের পরই আপিল করার সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে।

এ ছাড়া ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠার পর কোনো প্রবাসীর অধিকারসংক্রান্ত মামলা অন্য কোনো আদালতে চলমান থাকলে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সেটি ‘প্রবাসী ট্রাইব্যুনালে’ স্থানান্তরের আবেদন করতে পারবেন।

অবৈধ দখলের আয়ও ফেরত দেওয়ার প্রস্তাব
প্রবাসীর জমি, বাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বা অর্থ বেআইনিভাবে দখলে রাখার অভিযোগ প্রমাণিত হলে দখলদারকে শুধু সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে ওই সম্পত্তি থেকে অর্জিত আয় বা সমপরিমাণ অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীকে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতাও ট্রাইব্যুনালকে দেওয়ার প্রস্তাব করেছে এইচআরপিবি।

কোনো মামলায় তদন্তের প্রয়োজন দেখা দিলে ট্রাইব্যুনাল একজন জুডিশিয়াল অফিসারের মাধ্যমে সরেজমিনে তদন্ত করাতে পারবেন। সেই তদন্ত প্রতিবেদন বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

নিরাপত্তার নির্দেশ দিতে পারবে ট্রাইব্যুনাল
মামলার শুনানি চলাকালে কোনো আবেদনকারী নিরাপত্তাহীনতায় ভুগলে সংশ্লিষ্ট এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতাও ট্রাইব্যুনালের থাকা উচিত বলে মনে করে সংগঠনটি।

এইচআরপিবি বলছে, প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থ দেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। তাই তাদের সম্পত্তি ও অন্যান্য অধিকার সুরক্ষিত করা গেলে দেশে বিনিয়োগের পরিবেশও আরও শক্তিশালী হবে।

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান স্মারকলিপিটি গ্রহণ করে জানান, প্রস্তাবগুলো নিয়ে মন্ত্রণালয় বিস্তারিত আলোচনা করবে এবং পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

স্মারকলিপি হস্তান্তরের সময় এইচআরপিবির প্রতিনিধি দলে ছিলেন আইনজীবী মো. ছারওয়ার আহাদ চৌধুরি, এ এইচ ইমরুল কাওসার, মো. মাহবুবুল ইসলাম, রিপন বাড়ৈ, মো. মজিবুর রহমান, সেয়দা শাহিন আরা লাইলি ও নাছরিন সুলতানা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *