সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬

সবশেষ

ময়নাতদন্তে মিলল না পুলিশের বর্ণনার সঙ্গে তথ্য, রংপুরের চার হত্যার ঘটনায় নতুন প্রশ্ন

রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী-সন্তানসহ চারজনকে হত্যার ঘটনায় পুলিশের দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে ময়নাতদন্তে পাওয়া তথ্যের কিছুটা অমিল দেখা দিয়েছে। সোমবার সাংবাদিকদের কাছে বিষয়টি জানিয়েছেন চারজনের ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস।

ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, চার ভিকটিমকেই শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তবে তাদের কারও চোয়াল ভাঙার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে লাশের চেহারা অ্যাসিড দিয়ে বিকৃত করার কথাও নাকচ করেছেন তিনি।

ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস বলেন, ময়নাতদন্তে চোয়াল ভাঙার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। লাশগুলো কয়েকদিন পড়ে থাকায় মুখের চেহারা অনেকটা ঝলসে যাওয়ার মতো হয়ে গেছে। এ কারণে অ্যাসিড প্রয়োগের বিষয়ে যে গুঞ্জন ছড়িয়েছে, ময়নাতদন্তে তার কোনো প্রমাণ মেলেনি।

তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের সময় প্রয়োজনীয় বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব নমুনা পরবর্তী পরীক্ষার জন্য সিআইডির ল্যাবে পাঠানো হবে।

তবে এর একদিন আগে সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ হত্যাকাণ্ডের শিকার আগামী চক্রবর্তীর গলা ও মুখে রশি পেঁচিয়ে টানার কথা জানিয়েছিলেন। তার দাবি ছিল, এভাবে টানার ফলে আগামী চক্রবর্তীর চোখ বেরিয়ে আসে এবং দাঁতের চোয়াল ভেঙে যায়।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশের বক্তব্যের এই পার্থক্য চার হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

যেভাবে উদ্ধার হয় চারজনের মরদেহ
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বাড়িতে শনিবার সন্ধ্যার পর স্বজনদের সন্দেহ হয়। দীর্ঘ সময় কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে তারা পুলিশকে খবর দেন।

পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ বাড়িটিতে গিয়ে তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় চিলেকোঠা থেকে গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), সিঁড়ি থেকে তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫২) ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) এবং দোতলার শোবার ঘর থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী প্রিয়ম চক্রবর্তীর (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

চারজনকে হত্যার ঘটনায় রংপুরজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটির কারণ হিসেবে ‘মাদকসেবনে বাধা দেওয়া’কে সামনে রেখে পুলিশের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেওয়া হলেও তদন্তে হত্যাকাণ্ডের অন্যান্য দিকও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া মাছুয়াপাড়া এলাকার কানুদাসের ছেলে মুগ্ধ দাস (২৩) সিটি বাজারের একটি মাছের দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। আর সিদ্ধার্থ দাস (১৯) একটি স্বর্ণের দোকানে কারিগর হিসেবে কাজ করতেন। তারা সম্পর্কে মামাতো ভাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *