রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬

সবশেষ

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সফট পাওয়ার’ ক্ষতিগ্রস্ত, বদলাচ্ছে গালফ মিত্রদের কৌশল

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের পর মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক প্রভাব বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের ওপর উপসাগরীয় মিত্রদের আস্থায় টান পড়েছে এবং দ্রুত যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানোর সক্ষমতাও কমেছে।

২০১৫ সালের ইরান পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা সাবেক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কূটনীতিক অ্যালান আইর ওয়াশিংটন থেকে আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানের সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষণ করেছেন।

আইরের মতে, এই যুদ্ধের সবচেয়ে বড় ক্ষতিগুলোর একটি হলো উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সফট পাওয়ার’দুর্বল হয়ে পড়া। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে সামরিক অভিযানের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) দেশগুলোও নিজেদের নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন করে ভারসাম্য তৈরির দিকে এগোতে পারে।

এ পরিস্থিতিকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আইর বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি এখন কার্যত ‘আমেরিকা অ্যালোন’-এর দিকে চলে গেছে।

সাবেক এই মার্কিন কূটনীতিকের মতে, ইরানকে কেন্দ্র করে সামরিক শক্তি প্রয়োগের সিদ্ধান্ত ওয়াশিংটনের প্রভাব বিস্তারের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তিকে দুর্বল করেছে।

প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার করেও ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে পারেনি। ফলে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে, এমন ধারণা এখন প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

দ্বিতীয়ত, ইরানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনাও আগের মতো বিশ্বাসযোগ্য থাকছে না। তেহরান মনে করছে, ওয়াশিংটনের লক্ষ্য কেবল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে আনা বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে ছাড় আদায় করা নয়। এর পেছনে ইরানের শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার লক্ষ্য বা ‘রেজিম চেঞ্জ’-এর আকাঙ্ক্ষা রয়েছে, এমন ধারণা তৈরি হয়েছে।

এই অবিশ্বাস ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক আলোচনার পথ আরও কঠিন করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন আইর। তার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরানকে আবার আলোচনার টেবিলে বসানো এবং দ্রুত কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে ওয়াশিংটনের হাতে আগের তুলনায় কম কূটনৈতিক leverage বা চাপ প্রয়োগের সুযোগ রয়েছে।

একই সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতার বিষয়টি নতুন করে পর্যালোচিত হতে পারে। সামরিক শক্তির পাশাপাশি কূটনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতাও যে আঞ্চলিক প্রভাব ধরে রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, ইরান যুদ্ধের পর সেই বাস্তবতাই আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *