ইরানের বিশাল ভূখণ্ড ও জনসংখ্যার কারণে দেশটিতে বড় ধরনের স্থল অভিযান চালানো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বাস্তবসম্মত নয়। আর প্রচলিত সামরিক শক্তি ব্যবহার করে তেহরানের নেতৃত্বকে উৎখাতের লক্ষ্য পূরণ করতে না পারলে ওয়াশিংটন শেষ পর্যন্ত পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের পথ বেছে নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সন্ত্রাসবিরোধী সাবেক উপদেষ্টা জো কেন্ট।
শুক্রবার পডকাস্টার টাকার কার্লসনের অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনাকে অবাস্তব ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এ ধরনের পদক্ষেপের আশঙ্কা বাস্তব হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।
কেন্ট বলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য একাধিকবার পরিবর্তিত হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ঘোষিত লক্ষ্যগুলোর কোনোটি অর্জিত হয়নি। এসব লক্ষ্য পূরণে যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতার বড় অংশ ব্যবহার করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সামনে দুটি পথ দেখছেন কেন্ট
কেন্টের মতে, ওয়াশিংটন যদি এখনো ইরানের নেতৃত্বকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশটিকে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে চায়, তাহলে ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে মূলত দুটি বিকল্প রয়েছে। তার মধ্যে একটি পূর্ণমাত্রার স্থল অভিযান, অন্যটি পারমাণবিক হামলা।
তবে ইরানের ভৌগোলিক বিস্তৃতি ও বিপুল জনসংখ্যার কারণে স্থল অভিযানকে বাস্তবসম্মত মনে করেন না তিনি।
কেন্ট বলেন, পরিস্থিতি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করলে শেষ পর্যন্ত গণবিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহারের প্রসঙ্গ সামনে আসে। তার ধারণা, তাত্ত্বিকভাবে ইরানের পার্বত্য অঞ্চলের ভূগর্ভে থাকা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে সীমিত মাত্রার পারমাণবিক হামলার কথা বিবেচনা করতে পারে ওয়াশিংটন।
ট্রাম্পের আগের হুমকিও আলোচনায়
এর আগে, গত এপ্রিল মাসে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের দাবি মেনে না নিলে ইরানের ‘পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে’। পরবর্তী সময়েও তিনি একই ধরনের হুমকি দিয়েছেন।
ট্রাম্প আরও বলেছিলেন, প্রয়োজন হলে মার্কিন বাহিনী ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু ও অন্যান্য বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করতে পারে।
অস্ত্রের মজুত নিয়ে ভিন্ন দাবি
ইরানের ওপর সর্বশেষ দফার হামলা গত মাসের শেষ দিকে হঠাৎ স্থগিত করে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, দীর্ঘ সংঘাতের কারণে পেন্টাগনের উচ্চ নির্ভুলতার অস্ত্র এবং ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
তবে ট্রাম্প ও যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ ধরনের সংকটের খবর অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের হাতে প্রয়োজনীয় পরিমাণ গোলাবারুদ রয়েছে।
সামরিক চাপ থেকে অর্থনৈতিক অভিযানে ওয়াশিংটন
ইরানের বিরুদ্ধে কৌশল পরিবর্তনের ইঙ্গিতও দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। গত সপ্তাহে ট্রাম্প তেহরানের বিরুদ্ধে ‘চূর্ণবিচূর্ণ করে দেওয়ার মতো অর্থনৈতিক অভিযান’ শুরুর ঘোষণা দেন। তিনি এর নাম দিয়েছেন ‘ইকোনমিক ডি-ডে’।
এর কয়েক দিন পর মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে নতুন একগুচ্ছ নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেন। ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে, এমন প্রায় ৬০টি প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ও জাহাজকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়। তালিকায় চীনে থাকা ২১টি প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।
বেসেন্ট বলেন, তেহরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে অস্বীকৃতি জানানো দেশগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করাই ওয়াশিংটনের এই অভিযানের মূল লক্ষ্য বলে জানান তিনি।








