বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সবশেষ

বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসার ওপর স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করল যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়ায় যে স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছিল, তা আর কার্যকর থাকছে না। ম্যানহাটান ডিস্ট্রিক্ট আদালতের রায়ের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ওই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, গত ২১ আগস্ট ২০২৬ থেকে ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়ার ওপর আরোপিত স্থগিতাদেশ বাতিল হয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকরা এখন নিয়মিত প্রক্রিয়ায় অভিবাসী ভিসার আবেদন করতে এবং পরবর্তী ধাপগুলো সম্পন্ন করতে পারবেন।

এর আগে, চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি থেকে এ স্থগিতাদেশ কার্যকর ছিল। এর আওতায় বাংলাদেশ ছাড়াও ভুটান, নেপাল ও পাকিস্তানসহ মোট ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা প্রদান বন্ধ রাখা হয়।

কেন স্থগিত করা হয়েছিল
অভিবাসী ভিসা যাচাই-বাছাইয়ের নীতিমালা পর্যালোচনার অংশ হিসেবে স্থগিতাদেশটি দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছিল মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

তৎকালীন যুক্তি ছিল, যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর অভিবাসীরা যাতে নিজেদের আর্থিকভাবে পরিচালনা করতে পারেন এবং সরকারি সহায়তার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হয়ে পড়েন, তা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে অবৈধভাবে সরকারি কল্যাণমূলক সুবিধা নেওয়ার ঝুঁকি কমানোর বিষয়টিও নীতিমালা পর্যালোচনার লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

তবে স্থগিতাদেশ চললেও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আবেদনকারীদের আবেদন জমা দেওয়া কিংবা নির্ধারিত ভিসা সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়ার সুযোগ বন্ধ করা হয়নি। মূলত ভিসা দেওয়ার বিষয়টিই স্থগিত রাখা হয়েছিল।

আদালতের রায়ে বদলে গেল পরিস্থিতি
স্থগিতাদেশের বৈধতা নিয়ে আইনি চ্যালেঞ্জের পর ২১ আগস্ট ম্যানহাটান ডিস্ট্রিক্ট আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিটি বাতিলের নির্দেশ দেন।

বিচারক জ্যানেট ভার্গাস তার রায়ে বলেন, জানুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর অভিবাসী ভিসা আবেদনসংক্রান্ত যে নীতি গ্রহণ করেছিল, সেটি ‘স্পষ্টতই বেআইনি’। তার মতে, ওই নীতি কেন্দ্রীয় অভিবাসন আইনের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।

রায়ে বলা হয়, প্রচলিত আইনে অভিবাসী ভিসার আবেদন প্রক্রিয়ায় কনস্যুলার কর্মকর্তাদের ওপর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ক্ষমতার নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ওই সীমা অতিক্রম করেই নীতিটি গ্রহণ করেছিলেন।

বিচারক ভার্গাস আরও বলেন, আবেদনকারীর জাতীয়তার ভিত্তিতে ব্যাপকভাবে অভিবাসী ভিসা প্রদান বন্ধ করার নীতি বিদ্যমান আইনি কাঠামোর সরাসরি লঙ্ঘন।

ভার্গাস সাবেক ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নিয়োগ করা বিচারক।

এখন বাংলাদেশিদের কী হবে
স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের ফলে বাংলাদেশি নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে জানুয়ারি থেকে কার্যকর থাকা বিশেষ বাধাটি আর নেই। এখন আবেদনকারীরা প্রচলিত নিয়মে আবেদন করতে পারবেন এবং ভিসা প্রক্রিয়ার নির্ধারিত ধাপগুলো অনুসরণ করতে পারবেন।

তবে আবেদন করলেই ভিসা নিশ্চিত হবে, এমন নয়। যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ও কনস্যুলেটে আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের পর সংশ্লিষ্ট ভিসা কর্মকর্তারাই কোনো আবেদনকারীকে ভিসা দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

তালিকায় ছিল ৭৫ দেশ
জানুয়ারিতে যেসব দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা প্রদান স্থগিত করা হয়েছিল, সেগুলো হলো, আফগানিস্তান, আলবেনিয়া, আলজেরিয়া, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাহামাস, বাংলাদেশ, বারবাডোস, বেলারুশ, বেলিজ, ভুটান, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, ব্রাজিল, মিয়ানমার, কম্বোডিয়া, ক্যামেরুন, কেপ ভার্দে, কলম্বিয়া, আইভরি কোস্ট, কিউবা, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, ডোমিনিকা, মিসর, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, ফিজি, গাম্বিয়া, জর্জিয়া, ঘানা, গ্রেনাডা, গুয়াতেমালা, গিনি, হাইতি, ইরান, ইরাক, জ্যামাইকা, জর্ডান, কাজাখস্তান, কসোভো, কুয়েত, কিরগিজস্তান ও লাওস।

এ ছাড়া তালিকায় ছিল লেবানন, লাইবেরিয়া, লিবিয়া, মলদোভা, মঙ্গোলিয়া, মন্টেনেগ্রো, মরক্কো, নেপাল, নিকারাগুয়া, নাইজেরিয়া, উত্তর মেসেডোনিয়া, পাকিস্তান, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, রাশিয়া, রুয়ান্ডা, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডিনস, সেনেগাল, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, সাউথ সুদান, সুদান, সিরিয়া, তানজানিয়া, থাইল্যান্ড, টোগো, তিউনিসিয়া, উগান্ডা, উরুগুয়ে, উজবেকিস্তান ও ইয়েমেন।

স্থগিতাদেশের পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর দাবি করেছিল, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। স্থানীয়, অঙ্গরাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন সুবিধার ওপর নির্ভরতার আশঙ্কার কথাও তখন বলা হয়েছিল।

আদালতের রায়ের পর সেই নীতির ভিত্তিতে আরোপিত স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে প্রায় সাত মাস পর বাংলাদেশসহ সংশ্লিষ্ট ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া আবার স্বাভাবিক নিয়মে এগোনোর সুযোগ তৈরি হলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *