দুই বছরেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর নতুন ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে বাজারটি খুলতে যাওয়ার আগে কর্মী নিয়োগের পদ্ধতি, এজেন্সিগুলোর ভূমিকা এবং অভিবাসন ব্যয় নিয়ে এখনো বেশ কিছু বিষয় পরিষ্কার হয়নি।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন ব্যবস্থায় বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় মোট ৩৩৮টি প্রতিষ্ঠান যুক্ত থাকবে। বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া ৪২৩টি এজেন্সির তালিকা থেকে মালয়েশিয়া ২৫টি মূল এজেন্সি নির্বাচন করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি থাকছে ৩১২টি সহযোগী এজেন্সি এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)।
তবে সহযোগী এজেন্সিগুলো সরাসরি কীভাবে জব অর্ডার সংগ্রহ করবে, সেগুলো কীভাবে প্রক্রিয়াজাত হবে এবং মূল এজেন্সিগুলোর সঙ্গে তাদের কার্যক্রমের সমন্বয় কীভাবে হবে, এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।
নতুন ব্যবস্থার পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (এফডব্লিউসিএমএস) মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ার কথা। এ ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক স্পষ্ট করতে গত ১৪ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়া সরকারকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ। তবে এখন পর্যন্ত সেই চিঠির কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
এ অবস্থায় জনশক্তি রপ্তানিকারক ও অভিবাসন খাতের বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নতুন করে নিয়োগ-সিন্ডিকেট গঠনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, আগের মতো মূল এজেন্সিগুলোর হাতে নিয়োগ প্রক্রিয়ার নিয়ন্ত্রণ থাকলে কর্মীদের বিদেশ যেতে ব্যয় আবারও বেড়ে যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে একজন কর্মীর মালয়েশিয়া যেতে খরচ ছয় লাখ টাকার বেশি হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে, ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় গেছেন। ওই সময় একজন কর্মীর বিদেশ যেতে গড়ে ৫ লাখ ৪৪ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল। অথচ সরকার নির্ধারিত ব্যয় ছিল ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকা।
এদিকে ৩১২টি সহযোগী এজেন্সিকে সরাসরি জব অর্ডার সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ এবং কর্মী পাঠানোর সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিসের (বায়রা) সাবেক নেতা ও সদস্যরা। তাদের মতে, সহযোগী এজেন্সিগুলোকে কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করা না হলে আগের মতো মধ্যস্বত্বভোগী ও সিন্ডিকেটনির্ভর ব্যবস্থা ফিরে আসার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসানও নিয়োগ ব্যবস্থার কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার মতে, নতুন ব্যবস্থায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার মৌলিক কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসেনি। তার পরামর্শ, শ্রমবাজার আনুষ্ঠানিকভাবে চালুর আগে কর্মী পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়া, সম্ভাব্য খরচ এবং অনিয়ম হলে তার দায় কার, এসব বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি।
নতুন ব্যবস্থায় যেসব এজেন্সি যুক্ত হচ্ছে, তাদের অভিজ্ঞতা ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। মালয়েশিয়ার প্রাথমিক শর্ত অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট এজেন্সির অন্তত পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। পাশাপাশি পাঁচ বছরের মধ্যে তিনটি দেশে অন্তত তিন হাজার কর্মী পাঠানোর রেকর্ড, স্থায়ী কার্যালয় এবং নিজস্ব প্রশিক্ষণকেন্দ্র থাকার শর্তও দেওয়া হয়েছিল। পরে বাংলাদেশের অনুরোধে এসব যোগ্যতার কিছু শর্ত শিথিল করে মালয়েশিয়া।
শ্রমবাজার চালুর প্রস্তুতির মধ্যেই কর্মী ও সংশ্লিষ্টদের জন্য সতর্কতাও জারি করেছে সরকার। সরকারি নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত কোনো এজেন্সিকে কর্মীদের কাছ থেকে টাকা বা পাসপোর্ট না নিতে বলা হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করে অর্থ বা পাসপোর্ট সংগ্রহ করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।








