বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সবশেষ

দ্বিতীয়বার পাসপোর্ট হারালেই গুনতে হবে ১০ হাজার টাকা দণ্ড

পাসপোর্ট হারানো, চুরি কিংবা নষ্ট হয়ে গেলে পুনঃইস্যুর প্রক্রিয়ায় নতুন নিয়ম চালু করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এখন থেকে প্রথমবার এমন ঘটনা ঘটলে অতিরিক্ত দণ্ড ফি দিতে না হলেও দ্বিতীয়বার থেকে প্রতিবার নির্ধারিত পাসপোর্ট ফি-এর সঙ্গে আরও ১০ হাজার টাকা দিতে হবে।

এ ছাড়া পাসপোর্ট হারানো বা চুরির ঘটনা ঘটার পর তা অনলাইনে রিপোর্ট করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন-৪ শাখা থেকে ২১ সেপ্টেম্বর জারি করা এক পরিপত্রে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উপসচিব মোহাম্মদ নুরুজ্জামান স্বাক্ষরিত ওই পরিপত্রে মোট ১২টি নির্দেশনা রয়েছে।

হারানোর পর প্রথম কাজ অনলাইন রিপোর্ট
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা নষ্ট হওয়ার বিষয়টি দ্রুত বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদফতরের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে অনলাইনে জানাতে হবে। রিপোর্ট পাওয়ার পর অধিদফতর সংশ্লিষ্ট পাসপোর্টের স্ট্যাটাস হালনাগাদ করবে।

এর পাশাপাশি নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার নির্দেশনা রয়েছে। জিডি পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট থানা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সেটির সত্যতা যাচাই করে প্রতিবেদন পাসপোর্ট অধিদফতর বা সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসে পাঠাবে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুলিশের প্রতিবেদন না এলেও জিডির কপি জমা দিয়ে পুনঃইস্যুর আবেদন করা যাবে। পরে পাসপোর্ট অধিদফতর ‘লস্ট সার্কুলার’ জারি করে পুনঃইস্যুর প্রক্রিয়া এগিয়ে নেবে।

ভিসার জন্য জমা দেওয়া পাসপোর্ট আটকে রাখলেও মিলবে নতুন পাসপোর্ট
জিডি যাচাইয়ের সময় যদি দেখা যায়, ভিসা পাওয়ার উদ্দেশ্যে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা ট্রাভেল এজেন্সির কাছে পাসপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছিল এবং সেটি অবৈধভাবে আটকে রাখা হয়েছে, তাহলে বিশেষ ব্যবস্থায় নতুন পাসপোর্ট দেওয়া যাবে।

তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পাসপোর্টটি তাৎক্ষণিক ফেরত পাওয়া সম্ভব না হলে আগের পাসপোর্টটি বাতিল করে নতুন পাসপোর্ট ইস্যু করা হবে।

হারানো বা চুরি যাওয়া পাসপোর্টের তথ্য পাওয়ার পর পুলিশ স্পেশাল ব্রাঞ্চের ইমিগ্রেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (আইএমএস) তা হালনাগাদ করবে। প্রয়োজন হলে ইন্টারপোলকেও তথ্য জানানো হবে।

বিদেশে হারালে জানাতে হবে বাংলাদেশ মিশনকে
বিদেশে অবস্থানরত অবস্থায় পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা নষ্ট হলে অনলাইনে রিপোর্ট করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাস, হাইকমিশন বা কনস্যুলেটকে অবহিত করতে হবে।

সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ মিশন ‘লস্ট সার্কুলার’ জারি করে পুনঃইস্যুর কার্যক্রম সম্পন্ন করবে।

নতুন পাসপোর্টেও থাকবে হারানোর তথ্য
হারানো, চুরি বা নষ্ট হওয়া পাসপোর্টের পরিবর্তে নতুন পাসপোর্ট ইস্যু করা হলে তার ডেটা পেজে আগের পাসপোর্ট হারানোর বিষয়টি উল্লেখ থাকবে। একই সঙ্গে ডাটাবেজে আগের পাসপোর্ট হারানো বা বাতিল হওয়ার তথ্যও সংরক্ষণ ও হালনাগাদ করতে হবে।

পুনঃইস্যুর সময় আবেদনকারীর মৌলিক পরিচয়গত তথ্য নাম, জন্ম তারিখ, পিতার নাম ও মাতার নাম সম্পূর্ণ পরিবর্তন করা যাবে না। তবে আইন ও বিধি অনুযায়ী অনুমোদিত সংশোধনের আবেদন আলাদাভাবে বিবেচনা করা হবে।

আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত পাসপোর্টেও পুনঃইস্যুর সুযোগ
পাসপোর্ট আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেটির শনাক্তযোগ্য অংশ আবেদনকারীর কাছে থাকলে তা জমা দিয়ে পুনঃইস্যুর আবেদন করা যাবে।

অন্যদিকে পাসপোর্ট সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেলে এবং পরিচয় শনাক্ত করার মতো কোনো অংশ দেখানো সম্ভব না হলে সেটিকে হারানো পাসপোর্টের মতো বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
বাতিল পাসপোর্ট পরে পাওয়া গেলেও ব্যবহার করা যাবে না

হারানো বা চুরি হিসেবে রিপোর্ট করার পর কোনো পাসপোর্ট বাতিল করা হলে সেটি পরে খুঁজে পাওয়া গেলেও পুনরায় সক্রিয় করা যাবে না। বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রেও ওই পাসপোর্ট ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকবে।

এ ধরনের বাতিল পাসপোর্ট পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিকভাবে থানায় এবং পাসপোর্ট অধিদফতরের ওয়েবসাইটে বিষয়টি জানাতে হবে। বিদেশে থাকলে বাংলাদেশি সংশ্লিষ্ট মিশনকে অবহিত করতে হবে।

প্রথমবার বাড়তি জরিমানা নেই
নতুন পরিপত্রে পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রে দণ্ড ফির বিষয়টিও স্পষ্ট করা হয়েছে।

প্রথমবার পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা নষ্ট হলে নির্ধারিত পাসপোর্ট ফি-এর বাইরে কোনো অতিরিক্ত দণ্ড ফি দিতে হবে না। তবে দ্বিতীয়বার এবং এরপর প্রতিবার এমন ঘটনা ঘটলে নির্ধারিত ফির সঙ্গে অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা দণ্ড ফি দিতে হবে।

আগের এ-সংক্রান্ত পরিপত্র, আদেশ ও নির্দেশনা সমন্বয় ও সংশোধন করে নতুন পরিপত্রটি জারি করা হয়েছে। ২১ সেপ্টেম্বর জারির দিন থেকেই এটি কার্যকর হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন-৪ শাখার স্মারক নম্বর ১১৯৭-এর মাধ্যমে পরিপত্রটি জারি করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *